রায়পুরার চরাঞ্চলে শতাধিক বাড়িঘরে আগুন, লুটপাট

রায়পুরার চরাঞ্চলে একটি বাড়িতে আগুন ও লুটপাটনরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলের দুই ইউনিয়নে শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।  রবিবার বিকালে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামে ও শনিবার গভীর রাতে বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের চান্দেরকান্দি ও চরমেঘনা গ্রামে এসব ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে। রায়পুরা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন  হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিলক্ষা ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদমান দুই গ্রুপে টেঁটাযুদ্ধ চলে আসছিল। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে পরাজিত চেয়ারম্যান আব্দুল হক সরকার ও বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ ব্যাপক আকার ধারণ করে। সম্প্রতি দুই পক্ষের সংঘর্ষে কয়েকজন মারা যায়। একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সমঝোতা করা হলেও এলাকায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে শান্তি ফিরে আসেনি।

রবিবার বিকালে পরাজিত চেয়ারম্যান আব্দুল হক সরকারের সমর্থকরা টেটাঁ বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও গোপীবাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায়। এসময় ভয়ে বাড়ির লোকজন পালিয়ে গেলে হামলাকারীরা বাড়িটির কমপক্ষে ১৫টি ঘরে ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ ও মালামাল লুট করে।  খবর পেয়ে সন্ধ্যায় রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

একটি বাড়িতে আগুন ও লুটপাটএদিকে শনিবার গভীর রাতে অপর দাঙ্গাপ্রবণ বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের চান্দেরকান্দি ও চরমেঘনা গ্রামের ৯০টি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। পরাজিত চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান শাহেদ সরকারের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের সমর্থকদের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটায়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।  খবর পেয়ে বাঁশগাড়ী ফাঁড়ি ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে।

রায়পুরা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, এলাকায় পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।  দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় অপরাধীরা হামলা চালিয়ে এলাকা ত্যাগ করায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না।  দুপক্ষই অন্যত্র অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এলাকায় গিয়ে ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে বারবার সংঘর্ষে জড়াচ্ছে।