জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে সারাদেশের মতো লালমনিরহাটে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা প্রশাসন। শনিবার লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ থেকে বের হওয়া এ শোভাযাত্রায় সবাইকে চমকে দিয়ে অংশ নেন জেলা জাতীয়তাবাদী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরা শাপলাও।
আঞ্জুমান আরা শাপলা লালমনিরহাট পৌরশহরের বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের বড় মেয়ে, সদর উপজেলা পরিষদের বর্তমান (বিএনপি সমর্থিত) ভাইস-চেয়ারম্যান ও লালমনিরহাট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী। এক সময় তিনি জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
এ ব্যাপারে আঞ্জুমান আরা শাপলা বলেন, ‘আমার বাবা আজিজুর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা। লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমি ওই আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছি। ৭ই মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের সম্পদ। এটাকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার কোনও সুযোগ নেই।’
আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রায় আঞ্জুমান আরা শাপলার অংশ নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সমালোচনা থাকলেও বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয় সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আজিজুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তার সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে ৭ই মার্চের ভাষণের আনন্দ শোভাযাত্রায় নিয়েছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ায় তার এ অংশ গ্রহণ স্বাভাবিক। এছাড়া তিনি তো একজন জনপ্রতিনিধিও।’
একই কথা জানান পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম তপন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণে সমগ্র দেশের মানুষ এক হয়েছিলেন। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সেটা ভুলে যাননি। আজকের আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে সেটাই জানান দিয়েছেন তিনি।’
এদিকে, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলা বলেন, ‘লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে আঞ্জুমান আরা শাপলা শোভাযাত্রায় যেতে পারেন।’ বিষয়টিকে বিএনপি কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে, জানতে চাইলে তিনি কল কেটে দেন। পরে তার মোবাইল ফোনে আবারও কল দেওয়া হলে তিনি আর তা রিসিভ করেননি।