করের হার না বাড়িয়ে, করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বরিশালের কর বাহাদুর আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক। সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির ব্যাপারে পরামর্শ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘পদ্ধতি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার জন্য আয়কর নিয়ে আমাদের মধ্যে ভীতি রয়েছে। এ ভীতি দূর করার ক্ষেত্রে আয়কর মেলা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য করের হার বৃদ্ধি না করে বরং করের আওতা বাড়ালে সরকার বেশি লাভবান হবে, রাজস্ব আদায় বাড়বে।’
দীর্ঘদিন থেকে কর দেওয়ায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বরিশাল জেলার ‘কর বাহাদুর’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাকের পরিবার। এ পরিবারের ১১ জন সদস্যই নিয়মিত কর দিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছেন পরিবার প্রধান ‘কর বাহাদুর’ আব্দুর রাজ্জাক (৭৫)।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চার ছেলে ও তাদের স্ত্রী, মেয়ের ছেলেসহ নিজের নামে ও মেসার্স আব্দুর রাজ্জাক নামে আলাদাভাবে নিয়মিত কর দিয়ে আসছি। ১৯৫২ সাল থেকে পিতা ও ভাইসহ আমার পরিবারের সদস্যরা কর দিয়ে আসছে।’
তিনি আরও জানান, ঝালকাঠি জেলার নলছিটির আমিরাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও ব্রিটিশ আমল থেকেই তার বাবা মরহুম আলহাজ্ব তোফায়েল আহমেদ বরিশালে চলে আসেন এবং সেখানেই ব্যবসা শুরু করেন।
আব্দুর রাজ্জাকের জন্ম ১৯৪১ সালে। ১৯৫৬ সালে বরিশাল নগরীর আছমত আলী খান ইনস্টিটিউশন স্কুল থেকে মেট্রিক পাস করার পর ব্যবসায় শুরু করেন তিনি। সুতা, রড এবং সিমেন্টের ব্যবসা দিয়ে শুরু করে সততা ও নিষ্ঠার জন্য এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এ জনপ্রিয়তার কারণেই ১৯৭২ সালে হাটখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ১৯৭৩ সালে ইউনিয়ন ভেঙে ওয়ার্ড করা হয়। তাতেও তিনি ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হন। এছাড়াও ১৯৭২-৭৪ সালে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন কর বাহাদুর আব্দুর রাজ্জাক।
এখন সার ও বেকারির ব্যবসা ছাড়াও এসিআই এবং প্রাণ কোম্পানির ডিলারশিপসহ অন্যান্য ব্যবসা রয়েছে তার। ছেলেরাই এসব ব্যবসা পরিচালনা করছেন। চার ছেলের প্রত্যেকেই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও বাবার ব্যবসায় যোগ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন কর বাহাদুর আব্দুর রাজ্জাক।
এ পরিবারের অন্যান্য করদাতারা হলেন- আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে মো. নজরুল ইসলাম খোকন ও তার স্ত্রী আইরিন পারভীন, মো. হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী আরজুমান সাহারা, মো. মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রী পাপিয়া খানম, মো. মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা। এছাড়াও তার একমাত্র মেয়ে মরহুম নাজমা বেগমের ছেলে মো. রাকিবুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে বরিশাল কর অঞ্চলের কর কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদ হাসান জানান, ‘২০১৫ সালের পে-স্কেলের পর নতুন আইনের বাধ্যবাধকতার কারণেই চাকরিজীবীরা আয়কর প্রদান করছেন।’ পুরাতন ব্যবসায়ীরা আয়কর প্রদান করলেও নতুন ব্যবসায়ীরা তেমন এগিয়ে আসছে না বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা একবারেই আয়কর প্রদান করেন না তাদের বিষয়ে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টুর সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা সবাইকে নিয়ে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। তারপর পরবর্তী মাসে বরিশাল কর অঞ্চলের পক্ষ থেকে সার্ভে করা হবে।’
কর কমিশনার জানান, নতুনদের জন্য ইটিআইএন রি-রেজিস্ট্রেশন এবং হেলফ ডেস্ক করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মেলায় আগত শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে বরিশাল কর অঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলায় ২০১৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মোট করদাতার সংখ্যা ৩৯ হাজার। এ বছর নতুন করদাতার সংখ্যা ৩ হাজার ১৩১ জন এবং এ বছরের এ পর্যন্ত আদায়কৃত করের পরিমান ৪ কোটি ৪০ লাখ।