কোকো ট্র্যাজেডির ৮ বছর, নিখোঁজদের জন্য কান্না থামেনি স্বজনদের

ডুবে যাচ্ছে এমভি কোকো-৪ (ছবি- অনলাইন থেকে নেওয়া)

ভোলার লালমোহনে এমভি কোকো-৪ দুর্ঘটনার আট বছর আজ। ২০০৯ সালের এদিন (২৭ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে থেকে ঢাকা থেকে ভোলার লালমোহনগামী যাত্রীবাহী লঞ্চটি নাজিরপুর ঘাটের কাছে ডুবে যায়।

ওই দুর্ঘটনায় ভোলার বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান। নিখোঁজ হন আরও অনেকে, যাদের সঠিক হিসাব আজও পাওয়া যায়নি। আট বছর আগের ওই দিনে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের জন্য এখনও কান্না থামেনি তাদের স্বজনদের।

এমভি কোকো-৪ দুর্ঘটনায় স্বজন হারান আব্দুর সাত্তার, ফুলজাহান বিবি, কবির হোসেন, বাবুল মিয়া। তারা জানান, ঘটনার পর সরকারি সাহায্য পেয়েছিলেন তারা। কিন্তু এখনও ফিরে পাইনি স্বজনদের। হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের কথা মনে পড়লে এখনও কেঁদে বুক ভাসান তারা।

আরও বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইদুল আজহার আগের দিন লঞ্চডুবির ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনা মনে পড়লে আঁতকে উঠেন তারা। ওই ঘটনার পর ইদুল আজহা এলেই বিষাদের ছায়া ঘনায় তাদের পরিবারে। ঈদে আর আনন্দ করা হয় না তাদের। 

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ওই দুর্ঘটনার পর ৮৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে লালমোহন, চরফ্যাশন ও দৌলতখানের যাত্রীই ছিল বেশি। দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিছু যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় নিখোঁজ হন অনেক মানুষ। এর বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

দুর্ঘটনার ৫ দিন পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও রুস্তম ব্যর্থ হয়ে এমভি কোকো-৪কে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ফিরে যায়। পরে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তারেক রহমান ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের মালিকানাধীন লঞ্চটিকে উদ্ধার করা হয়।