কাফনের কাপড় জড়িয়ে দিয়াজের মায়ের অনশন

দিয়াজের মায়ের অনশনকেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে কাফনের কাপড় জড়িয়ে অনশন করেছেন তার মা জাহেদা আমিন চৌধুরী। সোমবার (২৭ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চত্বর ও শহীদ মিনার এলাকায় দু’দফায় তিনি অনশন করেন।

জাহেদা আমিন চৌধুরী প্রথম দফায় সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চত্বরে অনশন করেন। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে সেখান থেকে নিয়ে গেলে বেলা ১১টার দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় ফের অনশনে বসেন। এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থানের পর পরিবারের লোকজন ফের তাকে সরিয়ে নিয়ে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনশনকালে দিয়াজের মা একটি সাদা কাপড়ে হত্যা মামলার আসামিদের নাম লিখে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান। ওই কাপড়ে তিনি লিখেন, ‘দিয়াজের হত্যাকারী খুনি আনোয়ার, জামশেদ, আলমগীর টিপুসহ সব হত্যাকারীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে অপসারণ চাই।’

গত ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নিজ বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। ২৩ নভেম্বর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে এমন আলামত পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে দিয়াজের মা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা, সহকারী প্রক্টরসহ ১০ জনকে আসামি করে ২৪ নভেম্বর আদালতে মামলা করে পুনঃময়নাতদন্তের আবেদন করেন।

মামলার আসামিরা হলেন– বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জামশেদুল আলম, সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদ্য স্থগিত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদুল আলম জিসান, মার্কেটিং বিভাগের আবু তোরাব পরশ, অর্থনীতি বিভাগের মনছুর আলম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল মালেক, ইতিহাস বিভাগের মিজানুর রহমান, সাংবাদিকতা বিভাগের আরিফুল হক অপু ও বাংলা বিভাগের মো. আরমান। আসামিরা সবাই নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

গত ১০ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে দিয়াজের লাশ তুলে ফের ময়নাতদন্ত করা হয়। এ দফায় ময়নাতদন্তের পর লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা। পুনঃময়নাতদন্ত রিপোর্টে দিয়াজের মৃত্যুকে শ্বাসরোধজনিত হত্যা বলে উল্লেখ করা হয়।