হিলি স্থলবন্দরে কমেছে পাথরের আমদানি, বেড়েছে দাম

হিলি স্থলবন্দরে পাথরের ট্রাকসম্প্রতি ভারতে পাথরবাহী ট্রাকে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন বন্ধ করায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানির খরচ বেড়েছে। এতে বন্দর দিয়ে কমেছে পাথরের আমদানি। তবে দেশের বাজারে পাথরের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত দুই সপ্তাহে বেড়েছে পাথরের দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রকারভেদে টনপ্রতি পাথরের দাম বেড়েছে দুই থেকে তিনশ টাকা।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের চাহিদা মেটাতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আগে প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৫০ ট্রাক পাথর আমদানি হতো। ভারতে ট্রাকে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় এখন বন্দর দিয়ে পাথর আমদানির পরিমাণ কমে এসেছে। আগে প্রতিটি ট্রাকে আসত ৩৫ থেকে ৪০ টন পাথর। সেখানে একেকটি ট্রাকে এখন পাথর আসছে ২০ থেকে ২৫ টন। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এ মাসের ১ নভেম্বর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ৮৪৬টি ট্রাকে ২৯ হাজার ৫৯৫ টন পাথর আমদানি হয়েছে। অক্টোবর মাসে এই পরিমাণ ছিল ৫২৩টি ট্রাকে ২৪ হাজার ৬৮৭ টন।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি মো. হারুন উর রশীদ হারুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রসহ দেশের নির্মাণাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় প্রচুর পরিমাণে পাথরের ব্যবহার হচ্ছে। ফলে ভারতীয় পাথরের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু এ মাসের ১৫ তারিখ থেকে ভারতের মালদা জেলায় ট্রাকে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণায় ৬ চাকার ট্রাকে ৯ টন, ১০ চাকার ট্রাকে ১৫টন, ১২ চাকার ট্রাকে ২১ টন ও ১৪ চাকার ট্রাকে ২৫ টন পণ্য পরিবহনের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পাথরের পরিমাণ কমেছে।’
ট্রাকে পাথর পরিবহনের খরচ না কমলেও পাথরের পরিমাণ কমে যাওয়ায় বাড়ছে পাথরের দাম। জানা গেছে, গত তিন দিনের ব্যবধানেই প্রতি টন পাথরে দাম বেড়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। কয়েকদিন আগেও এই বন্দর দিয়ে আমদানি করা ৫/৮ ইঞ্চি ও ৩/৪ ইঞ্চি সাইজের পাথর প্রতিটন ৩২০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩৪০০ টাকায়। আর হাফ ইঞ্চি আকারের পাথরের দাম প্রতিটন ২৯০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩২০০ টাকা। আামদানি কমে যাওয়া ও দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
হারুন উর রশীদ বলেন, ‘আগে একেকটি ট্রাকে ৩৫ থেকে ৪০ টন পাথর এলেও এখন একই ট্রাকে আসছে ২৫ টন পাথর। এতে প্রতিটন পাথরে বাড়তি খরচ হচ্ছে ১৬২ টাকা। ফলে একদিকে যেমন পাথরের সরবরাহ কমেছে, অন্যদিকে বেড়েছে পাথরের দাম। এতে নির্মাণকাজে স্থবিরতা আসতে পারে।’
আরও পড়ুন-
ঠাকুরগাঁওয়ে বাস উল্টে নিহত ৩, আহত ৮