ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবস আজ

ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য অপরাজেয় ৭১

৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১। জয় বাংলা ধ্বনিতে উল্লসিত হয়ে ওঠে ঠাকুরগাঁও। ৮ মাসের বেশি সময় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আজকের দিনে মুক্তিযোদ্ধারা ঠাকুরগাঁওয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। দিনটি উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে জেলা শহরে।

এ ব্যাপারে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানান যায়, ১৯৭১ সালের ১ নভেম্বর কমান্ডার মাহাবুব আলমের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে এগুতে থাকে। ২ ডিসেম্বর রাতে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হয়। ওই রাতেই পাকিস্তানি বাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হটে পঁচিশ-মাইল নামক স্থানে অবস্থান নেয়। ৩ ডিসেম্বর বিজয়ের বেশে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধারা।

এর আগে ২১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও হরিপুর থানা অঞ্চলে যুদ্ধ হয়। ২৯ নভেম্বর তৎকালীন মহকুমার পঞ্চগড় থানা প্রথম শত্রু মুক্ত হয়। এরপর পাকিস্তানি বাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়। এরপর তারা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশ করে ৩০ নভেম্বর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভুল্লী ব্রিজ উড়িয়ে দেয়, সালন্দর এলাকায় মাইন পুঁতে রাখে। পরে মিত্রবাহিনী ভুল্লী ব্রিজ সংষ্কার করে ট্যাংক পারাপারের ব্যবস্থা করে। ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে মুক্তিসেনারা।

দিনটি উদযাপনে বেশ কয়েক বছর ধরে কর্মসূচি করে আসছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। মুক্তি শোভাযাত্রা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র প্রদর্শন, নাটক, সম্মাননাসহ দিনব্যাপী বেশ কিছু অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে এবারও। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ঠাকুরগাঁও সংসদের সভাপতি সেতারা বেগম এসব তথ্য জানান।

ঠাকুরগাঁও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিটের ডেপুটি  কমান্ডার আব্দুল মান্নান বলেন, ‘হানাদারমুক্ত দিবস পালনে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে হারিয়ে যাবে এ দিনের তাৎপর্য।’

যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আকবর হোসেন।