প্রথমে দাবড়ে ধরা হয়েছে একটা শিয়াল। তারপর কেটে কুটে, মসলা মেখে, রান্না করে, রীতিমতো ভুনা করে, চেটেপুটে খেয়ে ফেলা হয়েছে। আস্ত একটা শিয়াল দিয়ে উদরপূর্তি করেছেন টাঙ্গাইলের বাসাইলের সোনালিয়া গ্রামের একদল যুবক। শনিবার ( ২ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে শিয়ালের মাংস দিয়ে চড়ুইভাতির আয়োজন করেন তারা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, ‘এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছে বলে আজ জানতে পেরেছি।’
চড়ুইভাতির আয়োজকদের বিশ্বাস, শিয়ালের মাংস খেলে শরীরের ব্যথা কমে যায়, আরও অনেক রোগ ভালো হয়। একে তো শীত পড়েছে, তার ওপর সেদিন দুপুরে গ্রামের রাস্তায় স্বাস্থ্যবান একটি শিয়াল ধরা হয়েছে। ভোজের লোভ আর সামলানো যায়নি। বিকাল হতে না হতেই চড়ুইভাতির পরিকল্পনা করা হয়। এরপর আগ্রহীদের কাছে ৫০ টাকা করে চাঁদা তুলে খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় বারেক আলীর বাড়িতে রান্নার করা হয় বলেও জানিয়েছেন তারা।
আয়োজনের খবর পেয়ে স্থানীয় ২৫ থেকে ৩০ জন যুবকসহ বেশ কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তিও এ আয়োজনে অংশ নেন।
শিয়াল রান্নায় বাবুর্চির দায়িত্ব পালন করেছেন খলিল নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘খুব আগ্রহ নিয়েই রান্না করেছি। এটি আনন্দদায়ক ব্যাপার ছিল।’
টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. শরীফ আহমেদ খান বলেন, ‘জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত কোনও প্রাণীকে মানুষ খেয়ে থাকলে তার দেহে ওই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিয়াল খেয়ে কখনও কোনও রোগ ভাল হয় না, এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।’
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) নুরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বন্যপ্রাণী আটক করা বা খাওয়া অপরাধ। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে বন বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।’