চলতি বছরের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ও অসুস্থতার কারণে দুটি জিরাফ শাবক মারা যায়। পরে তিনটি নতুন অতিথিদের পদচারণায় জিরাফ বেষ্টনী আবারও দর্শনার্থীদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে জিরাপ শাবকগুলো সারাদিন খুনসুটিতে মাতিয়ে রাখে সাফারি পার্কের জিরাফ বেষ্টনী। ফলে দিন দিন বাড়ছে দর্শনাথীদের সংখ্যা।
অন্যদিকে, পার্কের কর্মকর্তারা বিশেষ দৃষ্টিতে রাখছেন জিরাফ শাবকগুলোর ওপর।
জানা গেছে, আফ্রিকান এই বন্য প্রাণী বনের বিশেষ বিশেষ জায়গায় দলবেঁধে ঘুরতে পছন্দ করে। গায়ে আছে আঁকাবাঁকা দাগ। তবে দু’টি জিরাফের গায়ের দাগ কখনোই একরকম হয় না। পৃথিবীর সবচাইতে লম্বা প্রাণী হিসেবে পরিচিত এই জিরাফ। এরা মূলত নীরিহ স্বভাবের প্রাণী। একটি জিরাফ প্রায় ১৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। লম্বা ও উচ্চতার কারণে প্রাণী জগতে জিরাফের স্থান প্রথম সারিতে। জিরাফের দৃষ্টিশক্তিও ভালো হওয়ায় এরা সহজেই দূরের শত্রুদের দেখতে পারে। এরা ঘণ্টায় প্রায় ৫৬ কিলোমিটার বেগে দৌঁড়াতে পারে। জন্মের সময় একটি জিরাফ প্রায় ৬ ফুট লম্বা হয়। জন্মের সময় একটি জিরাফ শাবকের ওজন ৬৮ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। জিরাফের জিহ্বা প্রায় ২১ ইঞ্চি লম্বা থাকায় খুব সহজেই উঁচু ডালের পাতা খেতে পারে।
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আনিছুর রহমান বলেন, ‘২০১৩-১৫ সাল পর্যন্ত সাফারি পার্কে চার দফায় দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ পার্ক থেকে ১০টি জিরাফ আনা হয়। এর মধ্যে চলতি বছরের ১৭ মে দুটি জিরাফ অসুস্থ হয়ে মারা যায়। একই বছরের জুন ও সেপ্টেম্বর মাসে একটি পুরুষ ও দুটি মাদিসহ মোট ৩টি শাবক জন্ম নেয়। সাফারি পার্কে বর্তমানে মোট জিরাফ রয়েছে ১১টি। যার মধ্যে ৪টি পুরুষ ও ৭টি মাদি। আবদ্ধ পরিবেশে বাংলাদেশে জিরাফের বাচ্চা দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। দক্ষিণ আফ্রিকা ও আমাদের পরিবেশের মধ্যে বেশি তারতম্য না থাকায় খুব সহজেই জিরাফগুলো অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিয়মিত বাচ্চাদানসহ স্বাভাবিক পরিবেশে জিরাফগুলো বেড়ে উঠছে। আগামী বছর জিরাফ পরিবারে আরও নতুন অতিথি আগমনের আশা করা যাচ্ছে।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন বলেন, ‘জিরাফের বাচ্চাগুলো সারাদিনই বেষ্টনী মাতিয়ে রাখে। আগত দর্শণার্থীদের অন্যতম আনন্দের খোরাকের কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে জিরাফ বেষ্টনী। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছর আরও বাচ্চা পাবো বলে আশা করছি।’
আরও পড়ুন:
ভুরুঙ্গামারী থানার ওসির অনিয়মের অভিযোগের বিভাগীয় তদন্ত শুরু