বই বিতরণ উৎসবে হামলা: ১১ মাসেও মামলার অগ্রগতি নেই

বই উৎসবসিলেট নগরীর বন্দরবাজারের দুর্গাকুমার পাঠশালায় বই বিতরণ উৎসবে হামলাকারীদের দীর্ঘ ১১ মাসেও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ওই ঘটনায় দায়ের মামলার এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি নেই। বরং বিষয়টি নিয়ে কোতোয়ালি থানার জিআরও এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।

এ বছরের ১ জানুয়ারি বই বিতরণ উৎসবে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

মামলা দায়েরের পর তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই ফয়েজ উদ্দিন ফায়েজ মামলার বাদী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সেগুফতা কানিজ আক্তার ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি।

তবে তদন্ত কর্মকর্তা ফায়েজ জানান, মাস তিনেক আগে তিনি মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছেন। অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) কোতোয়ালি থানার জেনারেল রেকর্ড অফিসার (জিআরও) নেহার রঞ্জন জানান, এখনও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র জমা দেননি। 

তিনি আরও জানান, দুর্গাকুমার পাঠশালা স্কুলে হামলার ঘটনায় দায়ের মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। অভিযোগপত্র না পাওয়ায় মামলাটিতে বিচারও শুরু হচ্ছে না।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মঞ্জুর আহমদ চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বাদী হয়ে গত ২ জানুয়ারি ৩০-৩৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি।

তিনি জানান, বই বিতরণ উৎসবে ওই হামলার পর ভীত শিক্ষার্থীরা প্রায় দিনই ক্লাসে অনুপস্থিত থাকতো। অনেকেই অভিভাবক ছাড়া ক্লাসে বসতে চাইতো না। আমরা চাই এ মামলাটি যথাযথ তদন্ত করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হোক।

ওইদিনের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আজান ও নামাজের সময় অনুষ্ঠান বন্ধ ছিল। নামাজ শেষে আবার অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসময় পাশের মসজিদ থেকে নামাজ শেষ করে বের হওয়া লোকজন শতবর্ষী এই বিদ্যালয়ে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা মিছিল করে এসে অনুষ্ঠানমঞ্চ, প্যান্ডেল, মাইক ও বাদ্যযন্ত্র, প্লাস্টিকের চেয়ারও ভাংচুর করে। এ সময় স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভয়ে দিগবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে।