স্কুলছাত্র মাশুক হত্যা মামলা: মুশফিকুরের বাবাসহ ১৫ জনকে অব্যাহতি

নিহত স্কুলছাত্র মাশুকবগুড়া এসওএস হারম্যান মেইনার স্কুল ও কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাশুক ফেরদৌস (১৫) হত্যা মামলায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদ তারাসহ ১৫ আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেওয়া এজাহারভুক্ত আসামি কিশোর বিদারুল ইসলাম নাঈমের (১৪) বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় চার্জশিট গৃহীত হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হাসান শামীম ইকবাল চার্জশিট দাখিল করলে মামলার বাদী মাশুকের বাবা এতে নারাজি আবেদন করেন। পরে নারাজি শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম সুন্দর রায় গত রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) এ আদেশ দেন।
বাদী নিহত মাশুকের বাবা ও জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক এমদাদ আদালতের এ আদেশ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের প্রভাবে সবকিছু করা হয়েছে। পুলিশ আসামী নাঈমকে অপহরণ করে ৯৬ ঘণ্টা আটকে রেখে তাকে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে। আদালতও বলেছেন, পুলিশ তার অনুমতি ছাড়াই নাঈমকে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে; সঠিক সময়ে হাজির করেনি। এছাড়া তাকে (নাঈম) বিকেএসপিতে ভর্তির ব্যবস্থা করারও প্রলোভন দেখানো হয়েছে। তাই চিহ্নিত ওইসব আসামিদের মুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই।’ নিম্ন আদালতে তার ছেলের খুনের বিচার পাবেন না বলে শিগগিরই জজকোর্টে রিভিশন করবেন এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান তিনি।
মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া আসামিরা হলেন— মুশফিকুর রহিমের বাবা ও মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মাহবুব হামিদ তারা, তার ভাই বগুড়া পৌরসভার ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মেজবাউল হামিদ, প্রধান শিক্ষক লাল মিয়া, খায়রুল, আল আমিন, সামসুল, তাজুল, অনিক, নাহিদ, কাঞ্চন, ফয়সাল, সাকিল, সাকিব, বিটুল ও মামুন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে রাত ৮টার দিকে বগুড়া শহরের মাটিডালি হাজিপাড়া এলাকায় স্কুল ছাত্র মাশুক ফেরদৌসকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মাথায় আঘাতে হত্যা করা হয়। ১৬ মে তার বাবা জাসদ নেতা অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক এমদাদ সদর থানায় হাজিপাড়ার বেলাল হোসেন সরকারের ছেলে কিশোর নাঈম, মাহবুব হামিদ তারা, পৌর কাউন্সিলর মেজবাউল হামিদসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এজাহারে পারিবারিক শত্রুতা ও একটি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে বিরোধকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়।
এই হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে। আদালতের নির্দেশে ২২ জুলাই বগুড়া সিআইডি’র এএসপি হাসান শামীম ইকবাল তদন্তভার গ্রহণ করেন। তদন্ত শেষে তিনি ২৫ অক্টোবর শিশু আদালতে শুধু বিদারুল ইসলাম নাঈমের বিরুদ্ধে চার্জশিট (নং-১১২১) দাখিল করেন। এছাড়া এজাহারে উল্লেখ ১৫ আসামিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য (এফআরটি নং-৫২) দাখিল করেন। এ বিষয়ে বাদীকে নোটিশ করে আপত্তি/বক্তব্য আদালতে পেশ করতেও অনুরোধ জানানো হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, গত ১৫ মে নাঈম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ ঘটনায় নিজের দায় স্বীকার করেছে। সে বর্তমানে যশোহরের পুলেরহাটে শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে রয়েছে। মামলায় ২৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি বাদীর অভিযোগ দৃঢতার সাথে অস্বীকার করে বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্ত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাদী আদালতে নারাজি দাখিল করেন। গত ১৭ ডিসেম্বর আদালত শুনানি শেষে বাদীর নারাজি আবেদন নাকচ, শুধু কিশোর নাঈমের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ এবং উল্লিখিত ১৫ আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন।’
আরও পড়ুন-
কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক
‘এরশাদ ৩০ বছর ধরে ভোট নিলেও রংপুরের কোনও উন্নয়ন করেননি’