নিহতরা হচ্ছেন কাতারপ্রবাসী আকামত আলীর স্ত্রী মাজেদা বেগম (২৫), মেয়ে লাবনী বেগম (৫) ও ছেলে ফারুক মিয়া (৩)। মঙ্গলবার বিকালে মা ও মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় ও শিশু-পুত্রকে মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এসময় দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল বলে জানান তারা।
মৌলভীবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মো.আবু ইউছুফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলিনি, রহস্যজনক মৃত্যু মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারে নিহতের প্রতিবেশি তিন মহিলাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।’ নিহত মাজেদা বেগমের ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ঘটনার পেছনে কোনও ষড়যন্ত্র বা পারিবারিক বিরোধ রয়েছে কিনা তা উদঘাটনে চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
তিনি আরও জানান, নিহতের স্বামী আকামত আলী কাতার থেকে আজ-কালের মধ্যে দেশে এসে মামলা দায়ের করবেন। আমার সঙ্গে ইতোমধ্যে ফোনে কথা হয়েছে তার।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, বুধবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে নিহত মাজেদার বাবার বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার ভুইকশিমইল ইউনিয়রে সাদিপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের সমাহিত করা হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কাতারপ্রবাসী আকামত আলীর স্ত্রী নিহত মাজেদা প্রতিদিন বাড়ির প্রায় একশ’ গজ দূরের নির্মাণাধীন ঘর নির্মাণকাজ তদারকি করেন। প্রতিদিনই তিনি মিস্ত্রিদের সহযোগিতা করতেন । মঙ্গলবারও তিনি বসতবাড়ি ও নির্মাণাধীন ঘরের স্থানে যাওয়া-আসা করছিলেন। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে দিবাংশু নামের এক মিস্ত্রি সিমেন্ট নিতে গিয়ে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখেন। এরপর ডাকাডাকি করেও দীর্ঘক্ষণ কোনও সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে মাজেদাসহ মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে লোকজনকে জানান। খবর পেয়ে ওয়ার্ড মেম্বার মাসুক আহমদ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোক্তার আলী পুলিশে খবর দেন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের ঝুলন্ত লাশ ও মেঝে থেকে শিশুপুত্রের লাশ উদ্ধার করে।