কোচিং ফি না দেওয়ায় বের করে দেওয়া হলো ৩৪ পরীক্ষার্থীকে!

শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়নগরীর শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিশেষ ক্লাসের নামে নেওয়া কোচিংয়ের ফি পরিশোধ না করায় ৩৪ পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ওই পরীক্ষার্থীদের খাতা কেড়ে নিয়ে তাদের বের করে দেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় মডেল টেস্ট পরীক্ষা দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এ অভিযোগ করলেও বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান তা অস্বীকার করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, তার ছেলে সকালে পরীক্ষা দিতে গিয়ে পরে ফোন করে জানায়, প্রধান শিক্ষক তাকে পরীক্ষা দিতে দিচ্ছেন না। প্রধান শিক্ষক বলেছেন কোচিংয়ের বকেয়া টাকা না দিলে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না। ওই অভিভাবক বলেন, প্রধান শিক্ষকের কাছে আমাদের ফোন নম্বর ছিল। তিনি আমাদের ফোন করে বিষয়টি জানাতে পারতেন। কিন্তু তা না করে বাচ্চাদের পরীক্ষার হল থেকে বের করে দিয়েছেন। এটি অমানবিক। এভাবে কোচিং ফি নেওয়াটাও যৌক্তিক নয়।

এ বিষয়ে পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অপু শীং লেপচা বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। পরে অভিভাবকদের সঙ্গেও কথা হয়। বিষয়টি দুঃখজনক। গত বছরও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফরম ফিলাপের সময় ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ফি আদায় করেছিল। আন্দোলনের পরে ৯০০ টাকা করে ফেরত দেওয়া হয়। এভাবে প্রতিবার কোনও না কোনও বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে।’

৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাচিং মারমা বলেন, ‘প্রায় সব ছাত্রছাত্রী আমার এলাকার হওয়ায় অভিভাবকের অভিযোগের পর বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি শুনি। অনেকে নাকি কোনও টাকা-পয়সা দেয়নি। তাই তাদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। পরে সমাধান হয়েছে। দুই কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করা হবে।’

তবে শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনও কোচিং করাই না, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাশের ব্যবস্থা করেছি। বিদ্যালয়ের ফল ভালো করার জন্য এই ব্যবস্থা। গত মাসের ১৯ তারিখ থেকে অনেকেই কোনও টাকা পয়সা না দিয়ে মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের কাউকে আমরা বের করে দেইনি।’