অভিযুক্তদের মধ্যে ১১ জন কর্মকর্তা শহীদ দিবসের অন্যান্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও একজন কর্মকর্তা দিনটির কোনও কার্যক্রমেই উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
বাগাতিপাড়ার ইউএনও নাসরিন বানু জানান, মহান বিজয় দিবসে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ প্রদর্শনী, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। কিন্তু ওই সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাইজুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহাদ আলী, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নির্মল কুমার মন্ডল, প্রকল্প কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাবিবা খাতুন, সমবায় কর্মকর্তা আকরাম হোসেন, জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার, দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা জাকির হোসেন, বন কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার রুহুল কুদ্দুস রুহী অনুপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও জানান, পরে বাগাতিপাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত কুচকাওয়াজ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠানে অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম কোনও অনুষ্ঠানেই উপস্থিত হননি। তাই প্রথমবারের মতো এমন অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে নাসরিন বানু বলেন, ‘যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন হয়েছি, সেইসব বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটাকে বীর শহীদদের প্রতি অবমাননা বলা যায়।’
শহীদ দিবসের কোনও অনুষ্ঠানেই উপস্থিত না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম অসুস্থ ছিলেন বলে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ওই দিন অসুস্থ ছিলাম বলে কোনও অনুষ্ঠানে যেতে পারিনি। তবে আমার প্রতিনিধি হিসেবে আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাসেলকে পাঠিয়েছিলাম।’
তবে এই কর্মকর্তার বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে ইউএনও নাসরিন বানু বলেন, ‘তিনি (ডা. আমিনুল ইসলাম) একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। শহীদ দিবসের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে পুস্পস্তবক অর্পণসহ সব অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠিয়ে দায় এড়ানোর কোনও সুযোগ নেই।’
আরও পড়ুন-
নয়ন জুড়াচ্ছে বরিশালের ১১৪ বছরের পুরনো ‘লাল গির্জা’
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় শাহজালালে ব্লগার গ্রেফতার