তিন দিনেও সন্ধান মেলেনি খুলনার ওয়ার্ড যুবলীগ নেতার

নিখোঁজ যুবলীগ নেতা সবুজবাগেহরাটের মোরেলগঞ্জ পানগুছি নদীতে নিখোঁজ হওয়া খুলনা সিটি করপোরেশন ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান সবুজের (৩১) সন্ধান তিন দিনেও মেলেনি। তার সন্ধানে সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানগুছি নদীতে টহল দেয় মোরেলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও তার স্বজনেরা।
বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মাসুদ সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পানগুছি নদীর খাওলিয়া ইউনিয়নের খাওলিয়া গ্রাম এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের মোরেলগঞ্জ ইউনিটটি টহল দিয়েছে। কিন্তু সারাদিন সন্ধান চালিয়েও ওই যুবলীগ নেতার সন্ধান পাওয়া যায়নি।’ পানগুছি নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় ওই যুবলীগ নেতার মৃতদেহ ভেসে গিয়ে থাকতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিস ধারণা করছে।
গত শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সবুজ ও তার বন্ধু খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) সার্ভেয়র আরেফিন রনি (৩৪) একজনের আমন্ত্রণে একটি ভবনের ডিজাইন করে দেওয়ার জন্য মোরেলগঞ্জের সোলমবাড়িয়া ফেরিঘাট থেকে একটি রিজার্ভ ট্রলারে সন্ন্যাসী যাচ্ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাঝ নদীতে ট্রলারে থাকা তরুণরা রনি ও সবুজকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে নদীতে ফেলে দেয়।
এসময় রনি ও সবুজের চিৎকারে মোরেলগঞ্জের গাবতলা এলাকার ট্রলারচালকরা রনিকে উদ্ধার করতে পারলেও সবুজ ডুবে যান। পরে রনিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে ইন্দুরকানি উপজেলার বালিপাড়া ফাঁড়ি পুলিশ ট্রলারসহ সাত তরুণকে আটক করে।
এদিকে, এই ঘটনায় রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া রনির মামা মল্লিক আবিদ হোসেন কবির।
মামলার তথ্য নিশ্চিত করে খুলনা সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমতাজুল হক সোমবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাত তরুণকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হাসান নামেও একজন আছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’