মঙ্গলবার (২৫ ডিসম্বের) দুপুর ১২টার দিকে নলডাঙ্গা রেল গেট এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে নলডাঙ্গার দুইট কলেজ, চারটি মাধ্যমিক ও দুইটি মাদ্রাসাসহ এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ও এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মানববন্ধনের আগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবকরা নিজেদের প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে বিক্ষোভ মিছিল নলডাঙ্গা বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মানববন্ধনে অংশ নেয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন খামার দশলিয়া আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল বাশার, নলডাঙ্গা জেসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, নলডাঙ্গা উমে চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী সুনিল গাঙ্গুলি, নলডাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বকুল, শিক্ষার্থী ছন্দা আকতার, নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও এতে বক্তব্য রাখেন।
ওই ঘটনার পর থেকে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী গাইবান্ধা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার বিকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন চিকিৎসক। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচ যুবকের মধ্যে তিনজনকে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। কিন্তু পলাতক দুই আসামি রুবেল মিয়া ও খুশু মিয়াকে পাঁচ দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
মানববন্ধনে পুলিশের বিরুদ্ধে আসামি গ্রেফতারে অবহেলা ও ভিকটিমের পরিবারকে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন বক্তারা। তাই ভিকটিমের পরিবারকে নিরাপত্তা ও পলাতক দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারসহ অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, ‘দ্রুত পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতার করা না হলে আগামীতে রেল অবরোধসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হবে।’
আসামি গ্রেফতারে অবেহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আটক তিন যুবক ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভিকটিমের পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।’