স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাউদকান্দি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দৌলদ্দি গ্রামের আরব আলীর মেয়ে রোকেয়া বেগম ও তার চাচাতো ভাই সাইজ উদ্দিনের মেয়ে তাসলিমা বেগমের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। জায়গা ভাগাভাগি নিয়ে রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে তাসলিমা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ৩৯ শতক জমির মধ্যে রোকেয়া বেগমের নামে ২০ শতক এবং তাসলিমার নামে ১৯ শতক। কিন্তু তাসলিমা বেগমের ১৯ শতক জায়গার মধ্য থেকে রোকেয়া বেগম আরও ৫ শতক জায়গা দাবি করেন। এই নিয়ে মামলার বাদী ও বিবাদীর মধ্যে হানাহানি ও মারামারিও হয়েছে। কিছুদিন আগে তাসলিমা তার জায়গার বাড়ি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করতে গেলে রোকেয়া বেগম বাধা দেন।
আরও জানা গেছে, তাসলিমার বাসস্থান উচ্ছেদ করতে শুক্রবার সকালে হঠাৎ দাউদকান্দি থানা থেকে পুলিশ নিয়ে আসেন রোকেয়া বেগম। পুলিশ সদস্যদের নেতৃত্ব দেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমির। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা রাকিব সরকারসহ কয়েকজন মিলে পুলিশের উচ্ছেদ কাজে বাধা দিলে এসআই আমির তাদের হুমকি দেয় এবং রাকিব সরকারের কোমর ও শার্টের কলার ধরে গাড়িতে উঠিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
আওয়ামী লীগ নেতা রাকিব সরকার বলেন, ‘আমাকে থানায় নিয়ে এসে মারধর ও বিভিন্ন অত্যাচার করেছে। এক পর্যায়ে আমার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে জামায়াত এবং শিবিরের কিছু কার্যক্রমের ছবি দেখিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি আমার ছোট ভাই রাহানের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ওই এসআই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে ছেড়ে দেওয়ার সময় এসআই আমির আমাকে অনেক হুমকি দেন।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই আমিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না। সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানেন।’
দাউদকান্দি থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘জায়গা জমির ব্যাপার থানা ও আদালত দেখবে। উনি পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।’
টর্চার, জামায়াত ও শিবিরের ছবি দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা এবং ৫০ হাজার টাকা দাবির কথা অস্বীকার করে ওসি বলেন, ‘কাউকে আটক বা গ্রেফতার করলে সে পুলিশের বিরুদ্ধে এসব বলবে এটাই স্বাভাবিক।’
আরও পড়ুন:
জেএসসি-পিইসি’র ফল প্রকাশ আজ