বাকৃবিতে পরীক্ষা বন্ধ করে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বাকৃবি
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সব ধরনের পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। বুধবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর অনিবার্য কারণ দেখিয়ে হঠাৎ করে পরীক্ষা বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, শুধু ছাত্রলীগের দাবির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা না করে হঠাৎ ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিতের নিদের্শনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ কারণে অনেকে পরীক্ষা দিতে এসেও ফিরে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বুধবার রাত থেকে তিন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগ। প্রতিটি কর্মসূচিতে সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবারের (৪ জানুয়ারি) ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করার জন্য বেশ কিছু দিন ধরেই প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিল ছাত্রলীগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরী ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ককে টেলিফোন করে বৃহস্পতিবারের পরীক্ষা বন্ধ করার নির্দেশনা দেন।

বাকৃবিতে ক্লাস পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া বিজ্ঞপ্তিজানা গেছে, পূর্ব ঘোষিত সূচি অনুসারে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদের মোট ৯টি বর্ষের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ফাইনালের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার হঠাৎ করেই অনিবার্য কারণ দেখিয়ে পরীক্ষা স্থগিতের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এছাড়া দ্রুত নোটিশ পাঠানোর কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন নি। ফলে আজ বৃহস্পতিবার পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানতে পারেন তারা।

এসময় শিক্ষার্থীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রস্তুতি নিয়ে এসে পরীক্ষা দিতে না পেরে খারাপ লাগছে। প্রশাসন হুট করে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

এ ব্যাপারে ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আবদুল কুদ্দুছ বলেন, ‘ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টার অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যেকটি অনুষদের ডিনের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. ইউসুফ আলী স্বাক্ষরিত নোটিশ পাঠানো হয়েছে।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরী কোনও কথা বলতে রাজি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর বলেন, ‘ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ক্লাস ও পরীক্ষার হলে বিশৃঙ্খলা হতে পারে বলে ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা জানালে আমি পরীক্ষা স্থগিত করতে রাজি হই।’