গাইবান্ধায় শৈত্যপ্রবাহে স্থবির জনজীবন, শীতবস্ত্র পাননি ছিন্নমূল মানুষেরা

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত গাইবান্ধার সাধারণ মানুষকনকনে হাওয়া ও শৈত্যপ্রবাহে গত তিনদিন ধরে তীব্র শীত জেঁকে বসেছে গাইবান্ধায়। সকাল থেকে সারাদিন প্রকৃতি ঢাকা থাকছে ঘন কুয়াশার চাদরে। ফলে শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু হয়ে পড়েছেন গাইবান্ধার সাত উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। সেই সঙ্গে গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়েও বিপদগ্রস্ত অনেকে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারাদিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি গাইবান্ধাতে। শীতের কারণে অফিস-আদালত-ব্যাংকেও জনসমাগম ছিল কম। সন্ধ্যার পরপরই শহর ও গ্রামের হাট-বাজারের দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। রাত ৮-৯টা বাজতেই জনশূন্য হয়ে পড়ে জেলা শহরসহ ছয় উপজেলা শহর ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। আর সকাল থেকে সারাদিনে বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশা সত্ত্বেও শিশুরা স্কুলে যাচ্ছেতীব্র শীতের কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে। তবে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শাহিনুল ইসলাম শাহীন জানালেন, পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের ওষুধ, স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় চিকিসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, তীব্র শীতের কারণে তিস্তা ও ব্রক্ষপুত্র নদের ১৬৫টি চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার শ্রমজীবী মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শীত নিবারণের উপায় না থাকায় তারা ঘর থেকে বের হতে না পারছেন না। ঠিকভাবে কাজকর্ম করতে না পারায় কমে গেছে আয়-রোজগার। শহর ও গ্রামের অধিকাংশ মানুষ চুলার আগুন বা খড়কুটে জ্বালিয়ে কোনোরকমে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। আবার চলমান শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে আলু আবাদসহ বিভিন্ন ফসলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানিয়েছে কৃষি অফিস।
তীব্র শীতে গৃহপালিত পশুদের নিয়েও বিপাকে আছেন স্থানীয়রাফুলছড়ির চরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ চরে বসবাসরত মানুষ শীতের তীব্রতায় কাহিল হয়ে পড়েছেন। ঘরে খাবার নেই, কাজ নেই। শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্যও নেই তাদের। এখন পর্যন্ত সরকার বা বেসরকারি সংস্থা— কেউই তাদের শীতবস্ত্র দেয়নি।’
হরিপুর চরের আজগর আলী, সাবেদ আলী, মোজদার রহমান বলেন, ‘শীতের কারণে কাজও মিলছে না তেমন। কম্বল আর কাঁথায় শীত যায় না। রাতে গরম কাপড়ের অভাবে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুব কষ্ট হয়।’
সদর উপজেলার বল্লমঝাড় গ্রামের আসমা বেগম, লাইলি আকতার বলেন, ‘এত শীতে বাঁচমো কেমন করে? শীতের কারণে খড় জ্বালিয়ে রাত কাটাই। হাতে টাকা নাই, এ কারণে সন্তানদেরও শীতের কাপড় দিতে পারছি না। চেয়ারম্যান, মেম্বার কম্বল না দিলে শীতে কষ্টে আর বাঁচার উপায় থাকবে না।’
শীতে বিপর্যস্ত জনজীবনজানা গেছে, সরকারিভাবে জেলার সাত উপজেলার ৮২ ইউনিয়নের অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এর বাইরে এ বছর বেসরকারিভাবে কম্বল বা শীতবস্ত্র বিতরণের তেমন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এখন পর্যন্ত বিতরণ হওয়া কম্বলের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। জেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার ছিন্নমূল মানুষদের জন্য আরও অনেক কম্বল প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ পাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন। তবে আরও শীতবস্ত্র চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। শীতবস্ত্র পেলে চরাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছিন্নমূল, অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।’
আরও পড়ুন-
হঠাৎ জেঁকে বসেছে শীত, থাকবে আরও ৪-৫ দিন