বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারাদিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি গাইবান্ধাতে। শীতের কারণে অফিস-আদালত-ব্যাংকেও জনসমাগম ছিল কম। সন্ধ্যার পরপরই শহর ও গ্রামের হাট-বাজারের দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। রাত ৮-৯টা বাজতেই জনশূন্য হয়ে পড়ে জেলা শহরসহ ছয় উপজেলা শহর ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। আর সকাল থেকে সারাদিনে বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
এদিকে, তীব্র শীতের কারণে তিস্তা ও ব্রক্ষপুত্র নদের ১৬৫টি চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার শ্রমজীবী মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শীত নিবারণের উপায় না থাকায় তারা ঘর থেকে বের হতে না পারছেন না। ঠিকভাবে কাজকর্ম করতে না পারায় কমে গেছে আয়-রোজগার। শহর ও গ্রামের অধিকাংশ মানুষ চুলার আগুন বা খড়কুটে জ্বালিয়ে কোনোরকমে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। আবার চলমান শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে আলু আবাদসহ বিভিন্ন ফসলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানিয়েছে কৃষি অফিস।
হরিপুর চরের আজগর আলী, সাবেদ আলী, মোজদার রহমান বলেন, ‘শীতের কারণে কাজও মিলছে না তেমন। কম্বল আর কাঁথায় শীত যায় না। রাতে গরম কাপড়ের অভাবে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুব কষ্ট হয়।’
সদর উপজেলার বল্লমঝাড় গ্রামের আসমা বেগম, লাইলি আকতার বলেন, ‘এত শীতে বাঁচমো কেমন করে? শীতের কারণে খড় জ্বালিয়ে রাত কাটাই। হাতে টাকা নাই, এ কারণে সন্তানদেরও শীতের কাপড় দিতে পারছি না। চেয়ারম্যান, মেম্বার কম্বল না দিলে শীতে কষ্টে আর বাঁচার উপায় থাকবে না।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ পাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন। তবে আরও শীতবস্ত্র চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। শীতবস্ত্র পেলে চরাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছিন্নমূল, অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।’
আরও পড়ুন-
হঠাৎ জেঁকে বসেছে শীত, থাকবে আরও ৪-৫ দিন