খুলনায় বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ১৪

পুলিশ-বিএনপি নেতাকর্মীরা মুখোমুখি (ছবি- প্রতিনিধি)

‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে খুলনা নগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে কমপক্ষে ১৪ জন বিএনপি নেতাকর্মী আহত ও ৫ কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর সদর থানার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আটকের বিষয়টি স্বীকার করলেও লাঠিচার্জের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন খুলনা থানার ওসি মিজানুর রহমান। 

বিএনপি সূত্র জানায়, ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর বিএনপির সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে যোগ দিতে খালিশপুর থানা বিএনপির একটি মিছিল পিকচার প্যালেস মোড় হয়ে থানা মোড়ে পৌঁছালে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ শুরু করেন। অতর্কিত হামলায় নেতাকর্মীরা ছোটাছুটি শুরু করলে সমাবেশস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ খালিশপুরের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদকে বেধড়ক পিটিয়ে আটক করে। একইস্থান থেকে যুবদল নেতা মেহেদী হাসান, রুহুল, লিপু মল্লিক ও কুদ্দুসকে আটক করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ইটপাটকেল ও চেয়ার নিক্ষেপে অন্তত ১৪ জন আহত হন। এদের মধ্যে খালিশপুর থানা নেতা আল আমিনের পা ভেঙে গেছে। তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের লাঠির আঘাতে বিএনপির দুই নারী কর্মী আহত হন। তারা হলেন বিউটি বেগম ও হোসনে আরা।

সূত্র জানায়, এর আগে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও চেয়ার ছুড়লে মহানগরীর থানা মোড়, কে ডি ঘোষ রোড ও বিএনপি অফিস এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পরে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর বিএনপি অফিস চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে বেলা পৌনে ১টার দিকে নগরীতে কালো পতাকা মিছিল বের করার উদ্যোগ নেয় বিএনপি। কিন্ত থানা মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ মিছিল আটকে দেয়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিলে পরিস্থিতি পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘হামলা চালিয়ে, মামলা দিয়ে, জেলে পুরে খুলনা বিএনপির নেতাকর্মীদের দমন করা যাবে না।’ পুলিশকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘খুলনার মাটি বিএনপির ঘাঁটি। এখানে চাকরি করতে হলে প্রজাতন্ত্রের সেবা করতে হবে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘৫ জানুয়ারি কোনও মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রে যায়নি। ফাঁকা কেন্দ্রে কুকুর আর প্রিজাইডিং অফিসারদের ঘুমিয়ে থাকার ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। আজ যিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তিনি নিজেও ভোট দেননি, কোনও ভোটারেরও তাকে ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। এই প্রহসনের সরকার জনগণ মানে না। তিনি জানান, তার নেত্রী খালেদা জিয়া শিগগিরই আন্দোলনের ডাক দেবেন। সেই আন্দোলনের জন্য প্রস্তত হতে তিনি নেতাকর্মীদের জানিয়েছেন।

ওসি মিজানুর রহমান জানান, বিশৃঙ্খলা করায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। এসময় ৫ জনকে আটক করা হয় বলেও জানান তিনি।