ঝিনাইদহে বাংলাদেশ টেলিভিশনের আঞ্চলিক উপ-কেন্দ্র থেকে সরকারি গাছ কেটে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গত কয়েকদিনে কাটা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২৫টি গাছ। নিয়ম বহির্ভূতভাবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
জানা যায়, ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের গোপিনাথপুর এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) উপকেন্দ্র। এই কেন্দ্রটিতে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক শতাধিক গাছ। কেন্দ্রটির দায়িত্বরত কর্মকর্তা (টিভি প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব) দিপক কুমার মালাকারের বিরুদ্ধে কয়েকদিনে মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মেহগনি, আম, কাঠাল, দেবদারুসহ ছোট-বড় প্রায় ২৫টি গাছ কাটা হয়েছে। কোনটি অর্ধেক, কোনটির ডাল কিংবা কোনটি সমূলে কাটা হয়েছে। পরে কাটা গাছের জায়গাগুলো পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে এসব গাছ তিনি বিভিন্ন ভাবে বাইরে বিক্রি দেন। গাছ কাটারত অবস্থায় শ্রমিক কুদ্দুস হোসেন বলেন, স্যারের নির্দেশে গাছ গুলি কাটছি। স্যার’ই আমাকে গাছ গুলো কাটতে বলেছেন।
উপ-কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রহরী আক্কাস আলী বললেন, কারেন্টের তারের জন্য স্যার গাছের ডালগুলো কাটতে বলেছেন। স্যারের সাথে গাছ যারা কাটছে তাদের নাকি কথা হয়েছে।
সহকারী প্রকৌশলী কুতুব উদ্দিন বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। তবে বিষয়টি নিয়ে ইনচার্জ স্যার ড্রিল করছেন। উনি ঢাকায় আছেন। উনি আসলে কথা বলতে পারেন।
তবে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই (টিভি প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব) দিপক কুমার মালাকার মোবাইল ফোনে গাছ কাটার কথা স্বীকার করলেও গাছ বিক্রির কথা অস্বীকার করে নানান যুক্তি দেখান।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন বলেন, বিটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এছাড়াও সরকারি গাছ এভাবে কাটার কোন নিয়ম নেই। যদি অবৈধভাবে গাছগুলো কাটা হয় তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।