প্রত্যন্ত অঞ্চলে মুরগির খামার গড়ে শূন্য থেকে কোটিপতি বনে গেছেন মাগুরার শিক্ষিত তরুণ আবু দাউদ। তিনি মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার সোনাতুন্দি গ্রামের বাসিন্দা। মুরগির খামারের সাফল্যের পর এবার পোল্ট্রি ফিডের কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি । ফলে কর্মসংস্থান হবে এই এলাকার বেকার তরুণদের।
তবে শুরুর যাত্রা মোটেও মসৃণ ছিল না আবু দাউদের। খামার গড়া ও সাফল্য পাওয়ার বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
দরিদ্র কৃষিজীবী আবুল হোসেন ও আনোয়ারা বেগমের ৯ সন্তানের মধ্যে আবু দাউদ ষষ্ঠ। ১৯৯০ সালে স্নাতক সম্পন্ন করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে কিছু করার স্বপ্ন ছিল তার মধ্যে। তখন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠান দেখে উৎসাহ পেয়েছিলেন তার বড় ভাই মো. আমীর হোসেন। ভাইয়ের পরামর্শে মুরগির খামার গড়ার কথা ভাবলেও পুঁজি কিংবা জমি ছিল না তাদের । তারপরও ব্যবসার জন্য বড় ভাই তার হাতে তুলে দেন ৬২ হাজার টাকা।
ওই অর্থ নিয়ে তিনি চলে যান ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলা সদরে বোনের শ্বশুর বাড়িতে। সেখানে ভগ্নিপতির জমিতে প্রথমে একটি মুরগির খামার শুরু করেন তিনি।নাম রাখা হয় ‘মেসার্স মাদার পোল্ট্রি’। তার মুরগির খামারে প্রথম বছর মুনাফা হয় মাত্র ৩৭৫ টাকা। মনে হতাশা জন্মালেও দমে যাননি দাউদ।
আশানুরূপ লাভ না হওয়া সত্ত্বেও মাগুরায় ফিরে আরেকটি খামার গড়ে আরও মনোযোগী হন আবু দাউদ। সোনাতুন্দির পাশেই তারউজিয়াল গ্রামে তিনি গড়ে তোলেন মুরগির খামার- ‘মেসার্স মাদার পোল্ট্রি’। একইসঙ্গে পোল্ট্রি ফিডের দোকানও দেন।
তারউজিয়াল গ্রামের স্কুল শিক্ষক কাজী মনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আবু দাউদের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে তাদের এলাকায় মুরগির আরও চারটি খামার গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, ডিম ও মুরগির ক্রেতাদের পদচারণায় সেখানকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন আগের তুলনায় অনেক গতিশীল।
আবু দাউদের খামারে বর্তমানে নিয়মিত ছয় জন মানুষ কাজ করেন। তার স্বপ্ন— তারউজিয়াল গ্রামে একটি পোল্ট্রি ফিড কারখানা গড়ে তোলা, যেখানে আরও শতাধিক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত লাভের টাকা দিয়ে নিজের এলাকায় ৫৫ শতক জমিও কিনেছেন তিনি।
তারউজিয়াল গ্রামবাসীর মন্তব্য, মুরগির খামারের সাফল্যে কঠোর পরিশ্রমী আবু দাউদ এখন স্থানীয় বেকার তরুণদের কাছে আদর্শ। তাকে দেখে অনেকেই এখন মুরগীর খামার গড়তে উৎসাহিত হচ্ছেন।