বেরোবিতে কোটা শিক্ষার্থীদের জন্যও ভর্তির সময় মাত্র একদিন

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষবর্ষে মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, হরিজন, পোষ্য ও প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তির জন্য যোগ্য শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার জন্য মাত্র একদিন সময় পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। তারা বলছেন, ভর্তির জন্য যোগ্য বিবেচিত হলে মাত্র একদিনের মধ্যে ভর্তির টাকা সংগ্রহ করা কিংবা অন্য কোথাও ভর্তি থাকলে সেখানে জমা দেওয়া কাগজপত্র তুলে এনে ভর্তি হওয়াটা প্রায় অসম্ভব। এ পরিস্থিতিতে তারা ভর্তির সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন। যদিও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে না থাকায় নতুন করে সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
এর আগে, এই ভর্তি প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় দফা সাক্ষাৎকারে যোগ্য বিবেচিত শিক্ষার্থীদেরও ভর্তির জন্য মাত্র চার ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (৭ জানুয়ারি) মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, হরিজন, পোষ্য ও প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তিচ্ছুদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করেছে কতৃপক্ষ। সাক্ষাৎকারের ফল ৯ জানুয়ারি প্রকাশ করা হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই সাক্ষাৎকারে ভর্তির জন্য যোগ্য বিবেচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে বলা হয়েছে ১০ জানুয়ারির মধ্যে। ফলে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে সময় থাকবে মাত্র একদিন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, সাক্ষাৎকারের ফল প্রকাশের মাত্র একদিনের মধ্যে ভর্তি হওয়ার জন্য অনেকেই ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় ৯-১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করতে পারবেন না। আবার এখানে ভর্তির জন্য যোগ্য বিবেচিত কোনও শিক্ষার্থী অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে থাকলে সেখান থেকে একদিনের মধ্যে কাগজপত্র তুলে নিয়ে এসে ভর্তি হওয়াটা প্রায় অসম্ভব। এ বিষয়ে কয়েকজন অভিভাবক রেজিস্ট্রার দফতরে গিয়ে যোগাযোগ করলে তাদের উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু উপাচার্য কার্যালয়ে গিয়ে তারা জানতে পারেন, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন, কবে ফিরবেন জানা নেই।
এ বিষয়ে বেরোবি কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক পরিমল চন্দ্র বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।’ তবে আর্থিক কারণে কোনও শিক্ষার্থীর ভর্তিতে সমস্যা হলে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান। আগামী বছরের ভর্তি পরীক্ষায় এমনটি যেন না হয়, তার অনুরোধ করবেন বলেও জানান তিনি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। উপাচার্য কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, তিনি ঢাকা আছেন। কবে ক্যাম্পাসে ফিরছেন, সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তার কার্যালয়ের কেউ।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সাত মাস আগে নিয়োগ পাওয়া এই উপাচার্য বেশিরভাগ সময় ঢাকাতেই থাকেন। এর আগে, দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশসহ ভর্তি কার্যক্রমের সময় তিনি ক্যাম্পাসে ছিলেন না। সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারি তিনি ঢাকা থেকে বিমানযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। পরদিন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করে সকালেই বিমানযোগে ঢাকার পথে রওনা দেন।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য খুব অল্প সময় বেঁধে দেওয়ার অভিযোগ বেরোবিতে এই প্রথম নয়। এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এ বছরের ভর্তি পরীক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়ের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২ জানুয়ারি। ওই দিন রাত ১০টায় ফল প্রকাশ করে পরদিন ৩ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে ভর্তির সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এতে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারেননি বলে অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুন-
তিন বছর ধরে বন্ধ হাবিপ্রবির প্রধান দুই গেট
এক অভিভাবককে পেটানোর ঘটনায় কক্সবাজারে তোলপাড়! (ভিডিও)