গোপালগঞ্জের সিলনা এখন ‘উচ্ছে গ্রাম’

সিলনা গ্রামে বিস্তীর্ণ ক্ষেতজুড়ে কেবলই উচ্ছের চাষকরলা, করল্লা, উচ্ছা, উস্তা, উচ্ছে— সুপরিচিত এই সবজিটি বিভিন্ন নামেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচিত। গোপালগঞ্জ এলাকায় এক নামে সবাই একে উচ্ছে বলেই ডাকে। আর এই উচ্ছের চাষ করেই জেলার সদর উপজেলার সিলনা গ্রাম পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘উচ্ছে গ্রাম’ নামে। এই গ্রামে ঢুকলেই মাঠের পর মাঠ চোখে পড়বে উচ্ছের ক্ষেত। ‘উচ্ছে গ্রাম’ নামের সার্থকতাও যেন মেলে এই বিস্তৃত উচ্ছে ক্ষেতেই। চাষিরা বলছেন, গোপালগঞ্জের বাজার ছাড়িয়ে এই সবজি চলে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। আর দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকের মুখেও ফুটেছে হাসি।
উচ্ছে ক্ষেতের পরিচর্যাগোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত দেড় হাজার বিঘা জমিতে এবার করলা বা উচ্ছের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই চাষ হয়েছে সদর উপজেলার সিলনা গ্রামে। এই এলাকার প্রধান ফসলের নাম হিসেবেও সবাই এক নামে উচ্ছের কথাই বলেন।
উচ্ছে তুলতে ব্যস্ত সময় কাটেছে কৃষকদেরসিলনা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের প্রায় প্রতিটি কৃষকই তাদের জামিতে উচ্ছের চাষ করেছেন। এখন তাদের ব্যস্ত সময় কাটছে উচ্ছে তুলতে। জেলা সদরের বাজারে প্রতিকেজি উচ্ছে কৃষকরা বিক্রি করছেন ৬০ টাকা দরে। খুচরা দোকানে গিয়ে সেটা হয়ে যাচ্ছে প্রতিকেজি ৭০ টাকা।
উচ্ছে বাজারে নেওয়ার প্রস্তুতিসিলনা গ্রামের উচ্ছে চাষী রমেন বিশ্বাস, উৎপল বিশ্বাসসহ অন্যরা জানালেন, এ বছর উচ্ছের ফলন হয়েছে ভালো। তাছাড়া ভালো দামও মিলছে বাজারে। তাই এ বছর উচ্ছের চাষে বেশ লাভবান তারা। আগামীতে এ এলাকায় উচ্ছের চাষ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন তারা।
ফুল আর পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে উচ্ছেগোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘সিলনা গ্রামে প্রতিবছরই কৃষকরা তাদের জমিতে উচ্ছে চাষ করে থাকেন। এ কারণে এ গ্রামটিকে লোকজন ‘উচ্ছে গ্রাম’ হিসেবে ডাকে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘এ গ্রামে উচ্ছের চাষ দিন দিন আরও বাড়ছে। আর এই গ্রামের কৃষকদের দেখাদেখি আশপাশের এলাকাতেও উচ্ছের চাষ বাড়ছে।’
প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা পেলে শুধু সিলনা গ্রামই নয়, জেলার অন্য গ্রামগুলোর কৃষকরাও উচ্ছে চাষ করে লাভবান হতে পারবেন বলে আশাবাদী সমীর কুমার গোস্বামী।
আরও পড়ুন-
বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে আসছেন বিদেশি মুসল্লিরা

গাজীপুরে সজীব ওয়াদে জয়ের নাম ভাঙিয়ে জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার চেষ্টা