তীব্র শীতে নাকাল কুষ্টিয়া

তীব্র কুয়াশায় যানবাহনও চলছে ধীরগতিতে, সতর্ক হয়েঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড শীতে কুষ্টিয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাড় কাঁপানো শীতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষ। শীত থেকে বাঁচতে আগুন জ্বালিয়ে শরীর উষ্ণ রাখার চেষ্টা করছেন শীতার্ত এসব মানুষ। প্রচণ্ড শীতে স্বাভাবিক চলাফেরাও বন্ধ হয়ে পড়েছে। শীতের কারণে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বেড়েছে। সরকারি হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।
মিরপুর উপজেলার মশান গ্রামের আল আমিন বলেন, ‘তীব্র শীতে ঘর থেকে বের হতেই পারছি না। যদিও বের হচ্ছি কাজের জন্য। কিন্ত কোনও কাজই ঠিকমতো করতে পারছি না।’ একই কথা জানালেন মিরপুর বাজারের চা বিক্রেতা মোহাম্মদ ইসা হকও।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আএরমও) ডা. তাপস কুমার সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তীব্র শীতের কারণে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি শীতজনিত রোগে ভুগছে। এসময় তাদের প্রতি অনেক বেশি যত্নশীল হতে হবে।’
আগুন জ্বালিয়ে শরীরকে উষ্ণ রাখার চেষ্টাএদিকে, বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশার কারনে জনজীবন অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে। দিনে সূর্যের আলো দেখা গেলেও কুয়াশার কারণে সন্ধ্যা থেকেই যানবাহনগুলো লাইট জ্বালিয়ে ধীরে ধীরে চলছে। স্বল্প আয়ের মানুষজন কাজে যেতে পারছেন না শীতের কারণে। বিভিন্ন স্থানে খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া শীতার্ত ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক জহির রায়হান। শহরের কোর্ট স্টেশন ছাড়াও মজমপুর বাসস্ট্যান্ড, বাস টার্মিনাল, লালন শাহর মাজার এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান মানুষের মধ্যে তার নেতৃত্বে শতাধিক কম্বল বিতরণ করা হয়।
শীতের পোশাকের জন্য নিম্ন আয়ের মানুষরা ছুটছেন ফুটপাতে, পুরনো কাপড়ের দোকানেকুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান হাবিব বলেন, ‘এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন হাজার কম্বল শীতার্ত ও ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ঘুরে ঘুরেও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।’
এদিকে, শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় কুষ্টিয়ায় গরম কাপড়ের চাহিদাও বেড়েছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের আনাগোনা থাকায় ফুটপাতের বেচাকেনাই জমজমাট হয়ে উঠেছে। আর নতুন কাপড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় পুরনো কাপড়ের দোকানের দিকে ক্রেতারা ঝুঁকে পড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। শহরের এনএস রোডের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠের সামনে, বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটের সামনে, মিরপুর পশুহাটসহ বিভিন্ন স্থানে বসেছে পুরনো কাপড়ের পসরাও।
পুরনো কাপড় বিক্রেতা হাবলু মিয়া বলেন, ‘শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম কাপড়ের চাহিদাও বেড়েছে। দাম হওয়ায় ক্রেতারাও এসব গরম কাপড় কেনার জন্য ঝুঁকছেন।’
আরও পড়ুন-
গোপালগঞ্জের সিলনা এখন ‘উচ্ছে গ্রাম’
বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে আসছেন বিদেশি মুসল্লিরা