সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি আলাউদ্দিনের (২৯) বাড়িতে চলছে মাতম। প্রিয়জনকে হারিয়ে দিশেহারা তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের আহাজারিতে আলাউদ্দিনের নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার পাঁচকান্দি গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
২০ জানুয়ারি সৌদি আরবের আল বাহা প্রদেশের বেলজুরিশিতে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশিসহ ৯ প্রবাসী শ্রমিক নিহত হন। তিন বাংলাদেশির মধ্যে একজন আলাউদ্দিন। তিনি মনোহরদীর পাঁচকান্দি গ্রামের আব্দুল মালেক ওরফে চাঁন মিয়ার ছেলে।
আলাউদ্দিনের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিহতের স্ত্রী ও মা আহাজারি করছেন। এ পরিবারের অন্য সদস্যরাও শোকে মুহ্যমান। আলাউদ্দিনের নিহত হওয়ার খবরে তার বাড়িতে এসে ভিড় করেছেন পাড়া-প্রতিবেশীরা। তারা শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দিচ্ছেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি এসে বিয়ে করেন আলাউদ্দিন। এরপর গত ১৭ ডিসেম্বর আবার সৌদি আরবে যান। এর এক মাস না পেরুতেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি।
নিহতের স্ত্রী তানজিনা বেগম বলেন, ‘নিহত হওয়ার দুই ঘণ্টা আগেও তার সঙ্গে আমার কথা হয়। কথা শেষ না হতেই ফোনের লাইন কেটে গিয়েছিল। ভেবেছিলাম, কাজে ব্যস্ত হওয়ায় তিনি বোধহয় লাইন কেটে দিয়েছেন। এর দুই ঘণ্টা পার হতে না হতেই খবর এলো, তিনি আর নেই।’
নিহতের বাবা আব্দুল মালেক ও মা জুলেখা বেগম জানান, তারা তাদের ছেলেকে শেষবার দেখতে চান। এজন্য আলাউদ্দিনের লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের প্রতি আবেদনও জানান তারা।
নরসিংদী জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল আলম বলেন, ‘আমরা সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরেছি, শনিবার (২০ জানুয়ারি) সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মনোহরদীর আলাউদ্দিন। তবে তার কোনও ঠিকানা আমাদের কাছে নেই। নিহতের পরিবারের লোকজন আবেদন করলে আমরা লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করব।’