সাধারণত, বিয়ে ও সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে ধামাইল গান পরিবেশন করা হয়। মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে ধামাইল গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়ে থাকে। ধামাইল গান শুধু হাওর এলাকা নয়, সারাদেশের লোকসংস্কৃতির একটি সমৃদ্ধ ধারা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বলেন, ‘বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্তের সমাধি সংস্কার কাজ জেলা পরিষদ নিজ উদ্যোগে করবে। জেলা পরিষদের অর্থায়নে জগন্নাথপুরের কেশবপুর গ্রামের রাধারমণ দত্তের সমাধি নির্মাণ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুনামগঞ্জের দুই দিকপাল লোককবি হাছন রাজা ও বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্ত–দুজনের গান সুনামগঞ্জের সীমানা পেরিয়ে বহিঃবিশ্বে স্থান করে নিয়েছে। গুণীজনদের সম্মান না করলে দেশে গুণী জন্ম হয় না। তাই তাদের কর্মকে অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে।’
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাধারমণ গবেষক আতম সালেহ, পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান, শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে, দৈনিক উত্তরপূর্ব পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক তাপস দাশ পুরকায়স্থ, আন্তর্জাতিক রাধারমণ পরিষদের সহ-সভাপতি অলক ঘোষ চৌধুরী প্রমুখ।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে ধামাইল গান পরিবেশন করেন রাধারমণ গবেষক ও বিশিষ্ট লোকসংগীত শিল্পী বিশ্বজিৎ রায়। উৎসবে সুনামগঞ্জের জনপ্রিয় লোককবিদের রচিত ধামাইল গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শিল্পীসহ স্থানীয় সংগঠনের শিল্পীরা। ধামাইল গান উপভোগ করতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে উপচে পড়া ভিড় ছিল।
উৎসবে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয় লোককবি ও গায়ক দেওয়ান মহসিন রাজা চৌধুরী ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিয়েশ চক্রবর্তীকে। তাদের স্বজনরা অতিথিদের হাত থেকে সম্মাননা ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। এছাড়া ধামাইল উৎসবে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকেও ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
এবারের ধামাইল উৎসবে নবনাগরী সংঘ, রাধারমণ পরিষদ, সুন্দরম শিল্পীগোষ্ঠী, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, নবারুন সংগীত বিদ্যালয়, শতদল শিল্পীগোষ্ঠী, লোকদল শিল্পীগোষ্ঠীসহ বেশ কয়েকটি উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন।
প্রথম দিনে ৬টি সাংস্কৃতিক সংগঠন ধামাইল গান ও নৃত্য পরিবেশন করে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত স্থানীয় শিল্পীরা ধামাইল পরিবেশন করবেন।