পুঁজিবাজার নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে তিন দিনব্যাপী পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ পরামর্শ দেন।
নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতার অভাব। অনেকে ভালোভাবে না জেনে বিনিয়োগ করছেন। আবার অনেকে নেতিবাচক ধারণার কারণে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন না। তাই আপনাদের পুঁজিবাজার নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যেতে হবে।’
দেশের অর্থনেতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পায়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। শুধু ব্যাংক ঋণ নিয়ে শিল্পায়ন কোনোদিন সম্ভব নয়। কারণ ব্যাংকের যে সুদ আসে, তা পরিশোধ করতে শিল্পে যে লাভ হয় তা চলে যায়।’
২০০৯ সাল থেকে দেশব্যাপী ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এখন সুবাতাস বইছে। এই উন্নয়নের অংশীদার দেশের জনগণ। বর্তমান সরকার ব্যবসা-বাণিজ্য-শিল্পায়নবান্ধব সরকার। জিডিপিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের কারণে আমাদের সরকারের বাজেটের আকার অনেক বড় হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশ অনেক এগিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য সাকিব আল হাসান বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই জেনে-বুঝে বিনিয়োগ করাটা উচিত। অনেক সময় দেখা যায়, কারও কাছ থেকে শুনে আমরা বিনিয়োগ করি। এটা উচিত নয়। যে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবেন আগে ওই কোম্পানি সম্পর্কে ভালোভাবে জানবেন।’ চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশে সাকিব আল হাসান বলেন, ‘আপনারা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে বেশি বেশি বিনিয়োগ করবেন। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
পরে নুরুল ইসলাম বিএসসি তিন দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন। এর আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম খাইরুল হোসেইন বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘সাময়িক বিনিয়োগের পরিবর্তে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আসতে হবে। তখন ঝুঁকি অনেক কমে যাবে। কিছু বিনিয়োগকারী আছেন যারা ঝুঁকি নিতে চান না। তাই কেউ বিনিয়োগ করে যেন ঝুঁকিতে না পড়েন, সেজন্য আমরা কাজ করছি। যারা ঝুঁকি নিতে চান না তাদের জন্য একটা নির্ধারিত শতাংশ লাভে বিনিয়োগ করা যায় কিনা সেই বিষয়ে কাজ করছি।’
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার।
এবারের মেলা সিএসইর ৬ষ্ঠ বারের আয়োজন। এর আগে ৩ বার চট্টগ্রামে আয়োজন করা হয়েছিল পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ মেলা। এছাড়া ২০০৭ সালে সিলেটে এবং ২০১৪ সালে ঢাকায় পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ মেলার আয়োজন করে সিএসই। সর্বশেষ ২০১৫ সালে চট্টগ্রামে পুঁজিবাজার মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবার মেলায় ৬টি প্যাভিলিয়ন, ৮টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ৬৯টি জেনারেল স্টল রয়েছে। যেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেবা নিতে পারবেন দর্শনার্থী এবং বিনিয়োগকারীরা।