খামার সূত্রে জানা যায়- বর্তমানে খামার থেকে নওগাঁ, কুষ্টিয়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, নাটোর, রাজশাহী, রংপুর, নীলফামারী, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ ও লালমনিরহাটসহ মোট ১৮টি জেলায় হাঁসের বাচ্চা সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
এ খামার থেকে ইন্ডিয়ার রানার, খাকি ক্যাম্পবেল, জেন্ডিং ও বেইজিং জাতের হাঁসের বাচ্চা ফুটানো ও সরবরাহ করা হয়। এ জাতের হাঁস বছরে প্রায় ২৮০ থেকে ৩০০ ডিম দেয়। স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই মুনাফা পাচ্ছেন হাঁস-পালনকারীরা।
ইতোমধ্যে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় কয়েক হাজার খামারি ৪ দিন মেয়াদি হাঁস পালন ও তুষ পদ্ধতিতে বাচ্চা ফুটানোর ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং তারা নিয়মিত হাঁস পালন করছেন। অনেক শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে হাঁস পালন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন বলেও জানিয়েছে খামার কর্তৃপক্ষ।
বগুড়া থেকে হাঁসের বাচ্চা কিনতে আসা আইজার আলী জানান, তিনি এক সময় বেকার সময় কাটাচ্ছিলেন। পরে এই খামার থেকে কম মূল্যে উন্নত জাতের হাঁসের বাচ্চা নিয়ে পালন করে আজ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বর্তমানে মাসে ডিম বিক্রি করে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হয়। হাঁসের খামার করার আগে তার নিজের কোনও জমি ছিল না। কিন্তু হাঁস পালন করেই এখন ২ বিঘা জমি কিনেছেন।
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, হাঁসের খামার থেকে খামারিরা অনেক লাভবান হলেও ভালো অবস্থায় নেই খামারটি। অনেক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে এটি। বর্তমানে খামারের ৮টি ব্রিডার সেট ও ২টি ব্রডিং শেডের পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, তাই পাশের কৃষকের জমিতে শেডের বর্জ্য পানি যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। কৃষকদের সঙ্গে প্রায়ই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ছেন খামারের কর্মচারীরা। খামারের ভেতরের রাস্তাগুলো নিচু ও কাঁচা হওয়ায় বর্ষার সময় পানি জমে এবং প্রচুর আগাছা জন্মায় যা খামারের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন খামারের সকল শেডের রান ও দেয়াল সংস্কার এবং নেটগুলো রঙ না করায় তা নষ্ট হতে চলেছে। খামারের সেটের নেট অনেক স্থানেই ছিঁড়ে গেছে। ছেঁড়া নেট দিয়ে বেজি অথবা শিয়াল ঢুকলে খামারের বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়াও খামারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বসবাসের জন্য অনেকদিন আগে তৈরি করা ভবনগুলো নতুন করে সংস্কার না করায় সেগুলোও প্রায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এসব ব্যাপারে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের ব্যবস্থাপক আব্দুল হামিদ বলেন, ‘খামারটি বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। খামারে নিয়মিত ১৪ জন ও সংযুক্ত ২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে ১৬ জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ১৩ জন রয়েছে। খামারের সব কিছু নতুনভাবে সংস্কার করা প্রয়োজন। সেডের নেট ও রাস্তা সংস্কার করা অতি জরুরি।’
খামারিদের ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি খামারিদের চাহিদা মেটানোর জন্য। বর্তমানে এখানে নিয়মিত সাড়ে চার হাজার হাঁস পালন করা হচ্ছে। গত অর্থ বছরে এই খামার থেকে ১৯ লাখ টাকার হাঁস ও ডিম বিক্রি করতে পেরেছি। বর্তমান সমস্যাগুলো সমাধান করে আরও খামারের উন্নয়ন করা হলে জাতীয় অর্থনীতিতে এই খামার বড় ভূমিকা রাখবে।’