ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এসএসসি পরীক্ষা, আতঙ্কে পরীক্ষার্থীরা!

জরাজীর্ণ এই ভবনেই চলছে এসএসসি পরীক্ষাটাঙ্গাইলের বাসাইলের গোবিন্দ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে পরীক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ওই ভবনের একটি কক্ষ (হল) বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করেছে তারা। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া হলটিতে চরম আতঙ্ক নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে ৩০ জন পরীক্ষার্থী। এ বিষয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কেন্দ্র প্রধানসহ সংশ্লিষ্টরা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
জানা গেছে, বাসাইলে ৩টি কেন্দ্র ও একটি ভেন্যুতে ২০১৮ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে একটি কেন্দ্রের হলে ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে পরীক্ষা নেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের ৩টি কেন্দ্রের একটি হচ্ছে বাসাইল গোবিন্দ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় । এ কেন্দ্রের ১০ নম্বর হলটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনও সময় ভবনের ছাদ ধসে পড়ে জীবননাশের আশঙ্কা রয়েছে। ভবনের বিভিন্নস্থান ইতোমধ্যেই পলেস্তারা খসে পড়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৩০ জন শিক্ষার্থী এ হলে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। হলটি এখন পরীক্ষার্থীদের আতঙ্কের কারণ।
নূর মোহাম্মদ, আল আমিন, শান্ত, আকাশ সূত্রধরসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানান, আতঙ্কের মধ্যে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। লেখার ফাঁকে ফাঁকে ওপরের দিকে চোখ যায়। এতে করে লেখায় পুরো মনোযোগ থাকছে না,পরীক্ষার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। আমরা বিষয়টি শিক্ষকদের বলেছি, কিন্তু,তারা কোনও পদক্ষেপ নেননি।
ভবনের ছাদের চিত্র। যেকোনও সময় তা ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছেঅভিভাবকদের অভিযোগ, ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনের ছাদের বিভিন্ন স্থান ধসে পড়েছে। যে কোনও সময় ভবনটি ধসে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কর্তৃপক্ষকে ভবনটিতে পরীক্ষা না নেওয়ার কথা জানালেও তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন তারা।
বাসাইল গোবিন্দ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব নওশাদ আলী বলেন, ‘রুম সংকট থাকায় এ হলে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি জানান,১৯৪৫ সালে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৪ সালে এক তলা বিশিষ্ট ওই ভবনটি নির্মাণ করা হয়। তবে ভবনটি নির্মাণে ত্রুটি ছিল। শিগগিরই ওই ভবনটি ভেঙে ৬ তলা বিশিষ্ট করা হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুন নাহার বলেন, ‘ছাদের যে পর্যন্ত ফাটল এবং ভাঙা রয়েছে, সে পর্যন্ত বেঞ্চ সরিয়ে দেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন-
সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল দুই পরীক্ষার্থীর
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আক্ষেপ নিয়েই ভাষা সৈনিক গাজী শহীদুল্লাহ’র প্রয়াণ