রংপুরে বিএনপি-আ.লীগ সংঘর্ষ থামাতে পুলিশের অ্যাকশন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ডের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রংপুরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নগরীর প্রাণকেন্দ্র জাহাজ কোম্পানি এলাকায় ঘটনা ঘটে। এসময় বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালায় নেতাকর্মীরা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, দু’পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের একজন, বিএনপির ১০ জন এবং বাকিরা পথচারী। খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার পর জাহাজ কোম্পানি এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরপর তা নগরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রায়ট-কার ব্যবহার করে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠি চার্জ করে পুলিশ। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের সময় নগরীর সব শপিং মল, মার্কেট, দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তাঘাটও যানবাহনশূন্য হয়ে পড়ে।
রংপুরে বিএনপি-আ.লীগ সংঘর্ষবিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, এর আগে বেলা ১১টার পর থেকে নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়ের জেলা ও মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা আসতে থাকে। এসময় পুলিশ তল্লাশি করে অনেককে প্রবেশ করতে দিলেও অনেককে যেতে দেয়নি। সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। তারা পুরো এলাকা ঘিরে রাখে। দুপুরে মামলার রায়ে খালেদা জিয়া সহ অন্যান্য আসামির সাজা ঘোষণার পরেই দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের অনেককেই বিকল্প পথে কার্যালয় ত্যাগ করে চলে যেতে দেখা যায়। এ সময় মহানগর বিএনপি সভাপতি মোজাফফর হোসেন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
রংপুরে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ থামাতে সক্রিয় পুলিশ জানা যায়, রায় ঘোষণার পর জাহাজ কোম্পানি এলাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কয়েকদফা ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পুলিশ রায়ট-কার নিয়ে বিএনপি কর্মীদের ধাওয়া করে। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এ সময় জাহাজ কোম্পানি শপিং মলে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ সংঘর্ষ নগরীর গুপ্ত পাড়া, কামাল কাছনা, সিটি বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দু’টি মোটরসাইকেল, একটি মাইক্রেবাসসহ বেশ কয়েকটি ইজিবাইক ভাঙচুর করা হয়।
রংপুরে বিএনপি-আ.লীগ সংঘর্ষএ ব্যাপারে মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিজু বলেন, ‘আমাদের পূর্ব-ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা উপলক্ষে সকাল থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল। সেই অনুসারে বিভিন্ন স্থান থেকে দলের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে আসার সময় প্রবেশ পথেই অনেক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। অনেকে চলে এলেও তাদের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি আমাদেরও বারবার অফিস ত্যাগ করে চলে যাবার জন্য শাসিয়েছে পুলিশ। তারপরও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অফিসে ছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘রায় ঘোষণার পরও আমরা কোনও মিছিল করিনি। আমরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঘোষণার অপেক্ষায় আছি। এত কিছুর পরও আওয়ামী লীগ ও পুলিশ মিলে নগরীর বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসময় আমাদের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’
পুলিশের অ্যাকশন এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল বলেন, ‘রায় ঘোষণার পর শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছিলাম আমরা। কিন্তু এসময় আমাদের মিছিলে বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।’
রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা কোনও উস্কানি ছাড়াই অরাজকতা করার চেষ্টা করছিল। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।’