ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহন কম, যাত্রীও হাতেগোনা

বাসের অপেক্ষায় যাত্রীরা (ছবি- প্রতিনিধি)

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রচুরসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এতে এ মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রী কমে গেছে। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত এ মহাসড়কে স্থানীয় কিছু পরিবহন কোম্পানির যাত্রীবাহী বাস চললেও দূরপাল্লার যানবাহন খুব একটা চলাচল করেনি।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি দিয়েও হাতেগোনা কিছু দূরপাল্লার যানবাহন পারাপার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) পাটুরিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মহিউদ্দিন রাসেল। তিনি জানান, প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার যাত্রীবাহী বাস পারাপার হলেও বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল খুবই সীমিত।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানিকগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার আশঙ্কায় মানিকগঞ্জের অনেক যাত্রী রাজধানীতে যাচ্ছেন না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া জেলা শহরের বিভিন্ন সড়কে র‌্যাব সদস্যদেরও টহল দিতে দেখা গেছে। আদালতসহ কয়েকটি স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, বানিয়াজুরী ও নয়াডিঙ্গী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অল্পসংখ্যক যাত্রীদের বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এর মধ্যে সাভার, নবীনগর ও আশুলিয়ার যাত্রীই বেশি ছিলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের আগে বা পরে জেলা শহরে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের দেখা যায়নি। বিএনপির মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের তালা খোলা থাকলেও সেখানেও কোনও নেতাকর্মী ছিলেন না। কার্যালয়ের সামনে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যকে দেখা গেছে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএ জিন্নাহ কবির বলেন, ‘পুলিশি নির্যাতন এড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। এছাড়া অনেকে ঢাকায় অবস্থান করছেন।’