৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ: অডিটর ও অফিস সহায়ক রিমান্ডে

নিরীক্ষক সহিদুজ্জামান ও পিয়ন দুলাল মিয়া (ছবি- প্রতিনিধি)

কিশোরগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণের পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের নিরীক্ষক মো. সহিদুজ্জামান ও অফিস সহায়ক মো. দুলাল মিয়ার তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ. ছালাম খান এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপ-পরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ খবর নিশ্চিত করেন।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী আব্দুর রহমান তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন জানান। আসামিদের উপস্থিতিতে আজ শুনানি হয়।

৬ ফেব্রুয়ারি সেতাফুলের জবানবন্দির ভিত্তিতেই মো. সৈয়দুজ্জামান ও অফিস সহায়ক মো. দুলাল মিয়াকে দুদক কর্মকর্তারা গ্রেফতার করেন।

২ ফেব্রুয়ারি ভূমি অধিগ্রহণের টাকা আত্মসাতের মামলার মূল অভিযুক্ত কিশোরগঞ্জের সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে টাকা আত্মসাতের কাজে সহায়তা করার জন্য নিরীক্ষক সৈয়দুজ্জামানকে পাঁচ লাখ টাকা ও অফিস সহায়ক দুলাল মিয়াকে একলাখ টাকা দিয়েছেন বলে জানান। এ কথার সূত্র ধরে ঢাকা কেন্দ্রীয় অফিস থেকে আসা দুদকের একটি উচ্চপর্যায়ের দল কাগজপত্র পরীক্ষাসহ অনেককেই ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি নিশ্চিত হন। সেতাফুল ইসলাম বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।

১৭ জানুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ময়মনসিংহ অঞ্চলের সহকারী পরিচালক রাম প্রসাদ মণ্ডল বাদী হয়ে সেতাফুলকে একমাত্র আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় সেতাফুলের বিরুদ্ধে জাল দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এদিন দুদকের কর্মকর্তা তাকে পিরোজপুর থেকে গ্রেফতারও করেন। কিশোরগঞ্জ থেকে বদলির পর তিনি একই পদে পিরোজপুর জেলায় দায়িত্বরত ছিলেন।