ক্লাসে ফিরেছেন কারমাইকেল কলেজের শিক্ষকরা, অবস্থান কর্মসূচিও চলছে

অধ্যক্ষকে ঘিরে বিক্ষোভঅধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) তারা ক্লাসে ফিরেছেন। তবে তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। সোমবার কর্মসূচির তৃতীয় দিনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে অফিস কক্ষে ঢুকতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হন অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ মিয়া।

দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ তোলে অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন কলেজের শিক্ষকরা।

এ ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান চৌধুরী জানান অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে তারা যে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন কর্মসূচি দিয়েছিলেন সেটা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সোমবার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে অবস্থান কর্মসূচি ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝোলানো অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘আজ সকালে আমরা শিক্ষকরা সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হবে, সেইসঙ্গে অবস্থান কর্মসূচিও চলবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অধ্যক্ষ আজ কিছু বহিরাগত নিয়ে তার কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে চলে যেতে বাধ্য হন।’

পিয়নের হাতে ব্যাগ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন অধ্যক্ষসোমবার কর্মসূচি চলাকালে রিকশায় করে কলেজে আসেন অধ্যক্ষ লতিফ মিয়া। তিনি প্রশাসনিক ভবনে নিজ অফিস কক্ষে ঢুকতে গেলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে বাধা দেন। এতে অধ্যক্ষ কলেজের পাশের একটি ভবনে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা। অন্যদিকে, শিক্ষকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান গেটে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।

দুপুর ১টার দিকে অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মিয়া একটি রিকশায় চড়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এলে তাকে দেখে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করতে থাকে। অন্যদিকে, পাশেই শামিয়ানা টানিয়ে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকরাও হৈ চৈ শুরু করেন। অধ্যক্ষ প্রথমে রিকশা থেকে নেমে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে তাকে ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকে শিক্ষার্থীরা। এ সময় মূল ভবনের পাশের একটি ভবনে গিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেখানেও কয়েকজন শিক্ষকের বাধার মুখে পড়ে দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। এর আগে তিনি যখন হেটে চলে যাচ্ছিলেন তখন তার পেছনে পেছনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে বেশ কিছুক্ষণ সেখানে অপেক্ষা করে দুপুর আড়াইটার দিকে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান তিনি।

আন্দোলন প্রসঙ্গে কলেজের উপাধ্যাক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক জানান অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ মিয়া কলেজে যোগদানের পর থেকে আপ্যায়নের নামে ভুয়া ভাউচার করে অনেক টাকা উত্তোলন করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে অশালীন আচরণও করেন। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর ভায়রার দাপট দেখিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন, কথায় কথায় চাকরি খেয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। অধ্যক্ষের অপসারণ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, আমি শিক্ষামন্ত্রীর ভায়রার প্রভাব দেখালে কলেজে আসতাম না, বরং রাত ৮টা পর্যন্ত আমি কাজ করি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান উপাধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের চাকরি আছে পাঁচ মাসম,আমার চাকরির মেয়াদ ৬ মাস। তিনি অধ্যক্ষ হতে চেয়েছিলেন, হতে পারেননি বলে দল ভারি করে বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন। কোনও দুর্নীতি করেননি দাবি করে লতিফ মিয়া বলেন,এ ব্যাপারে যেকোনও তদন্ত হলে তা তিনি মেনে নেবেন।