রাজশাহীতে বই পড়ে পুরস্কার পেলো ১ হাজার ৪৪৬ শিক্ষার্থী

বই পড়ে পুরস্কার পেলো ১ হাজার ৪৪৬ শিক্ষার্থীরাজশাহী নগরীতে বই পড়ে এক হাজার ৪৪৬ শিক্ষার্থী পুরস্কার পেয়েছে।  শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নগরীর ৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে এসব পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

জানা যায়, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচালিত নগরীর স্কুল পর্যায়ের বইপড়া কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের হাতে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রতিটি স্কুলের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কারগুলো চারটি ক্যাটাগরিতে প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে স্বাগত পুরস্কার, শুভেচ্ছা পুরস্কার, অভিনন্দন পুরস্কার ও সেরা পাঠক পুরস্কার। স্বাগত পুরস্কার পেয়েছে ৮১২ জন, শুভেচ্ছা পুরস্কার ৩৪৬ জন, অভিনন্দন পুরস্কার ২০৬ জন ও সেরা পাঠক পুরস্কার পেয়েছে ৮২ জন।

এসময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক, জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক ড. রীনা রানী দাস, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নাটোর শাখার সংগঠক অধ্যাপক অলক মৈত্র, এভারেস্ট বিজয়ী এম এ মুহিত, নিশাত মজুমদার, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তাইফুর রহমান, গ্রামীণফোনের রাজশাহী সার্কেলের হেড অব মার্কেটিং মোহাম্মদ সোহেল মাহমুদ এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উপদেষ্টা অঞ্জন কুমার দে।

বই পড়ে পুরস্কার পেলো ১ হাজার ৪৪৬ শিক্ষার্থী

অনুষ্ঠানে হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই বইপড়া কার্যক্রম আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে নিজেকে বিকশিত করার এক মহা সুযোগ।

তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘তোমরা জানো, ভাষার ওপর ভিত্তি করেই আমাদের দেশ ও জাতির জন্ম হয়েছে। আমাদের সংস্কৃতি আমাদের মনে গভীরভাবে মিশে আছে। একে উন্নত করার জন্য আমাদের অবশ্যই পাঠ্য বইয়ের বাইরে প্রচুর বই পড়তে হবে। এই বই যত বেশি পড়বে তত বেশি জানবে।

অধ্যাপক ড. রীনা রানী দাস বলেন, ‘তোমাদের বই পড়ার অভ্যাসটা যেন ডিজিটাল ডিভাইসের আড়ালে চাপা পড়ে না যায়। বই পড়া জীবনের একটা অনুসঙ্গ। নিজেদের জন্য বই পড়ার অভ্যাস কমে গেলে চলবে না। আমাদের সবার মনের চিকিৎসার জন্য বেশি বেশি বই পড়তে হবে। আমরা যত বেশি বই পড়বো, তত বেশি শব্দ ভাণ্ডার আমাদের আয়ত্ত হবে। আমরা সমৃদ্ধ হবো।’

এভারেস্ট বিজয়ী এম এ মুহিত বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষের ভেতরেই একটা এভারেস্ট রয়েছে। এই এভারেস্ট হলো তার স্বপ্ন। তোমরা স্বপ্ন দেখ এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি অবিচল থাকো। দেখবে, প্রত্যেকেই যার যার এভারেস্টে উঠতে পেরেছো।’

বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদার তার এভারেস্ট জয়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার পর পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘জীবনে বড় কিছু হতে হলে অবশ্যই বই পড়তে হবে। আমি পাহাড়ে ওঠার স্বপ্ন দেখেছিলাম বই পড়ার মাধ্যমে। বই আমাদের স্বপ্ন দেখা শেখায় এবং আমাদের কল্পনা শক্তি বাড়ায়। তাই এই বইগুলো তোমরা বেশি বেশি করে পড়বে যাতে তোমরা প্রত্যেকেই পাহাড়ের সমান উঁচু এবং আকাশের মতো উদার হতে পারো।’