২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের সাজা হিসেবে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায় ঘোষণার পরই জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা স্থানীয় অনুসারীদের নিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে। তাদের আক্রমণের শিকার হয় বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রও। সেখানে একপর্যায়ে তারা পুলিশ সদস্য তোজাম্মেল হক, নজিম উদ্দিন, বাবলু মিয়া ও হযরত আলীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।
চার পুলিশ সদস্যের স্মরণে আলোচনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. তাজুল ইসলাম, সঞ্চালনা করেন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ফয়সাল সাকিদার আরিফ। সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম গোলাম কিবরিয়া ও সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান।
অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সমশ উদ্দিন বাবু, বামনডাঙ্গা সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব বিষ্ণু রাম রায়, মানবাধিকারকর্মী মাহাবুবুর রহমান, সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হবি ও শাহজাহান মিয়া। আলোচনা শেষে নিহত চার পুলিশ সদস্যর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
এসময় নিহত পুলিশ কনস্টেবল হযরত আলীর স্ত্রী লায়লা বেগম বলেন, ‘ওই ঘটনার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার পাইনি। আমার স্বামী যখন মারা যায়, তখন তার চাকরির মাত্র আট বছর। সে একাই ছিল আমাদের পরিবারের উপার্জনকারী সদস্য। সন্তানের পড়ালেখার খরচ জোগারসহ সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বারবার ঘুরেও পেনশনের টাকাটা তুলতে পারছি না।’ হযরত আলী নিহত হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকবার চাকরির আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন-
ঢাকার সঙ্গে উত্তরের ১১ জেলার বাস চলাচল শুরু
সুন্দরগঞ্জে আ.লীগে যোগ দিলেন জাপা’র দুই শতাধিক নেতাকর্মী