নেত্রকোনায় ঝোপ থেকে নবজাতক উদ্ধার

হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে শিশুটিরনেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে ঝোপের ভেতর থেকে এক নবজাতকে  উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ছেলে শিশুটিকে কে ফেলে গেছে তা জানা যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে বানিয়াগাতী গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের স্ত্রী মিনা আক্তার ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য অজু করতে বাড়ির পাশের টিউবওয়েলে গেলে শিশুটির কান্না শুনতে পান। পরে প্রতিবেশীদের ডেকে নিয়ে মিনা আক্তার রাস্তার পাশে শিশুটিকে ঝোপের ভেতর পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেন এবং পুলিশের পরামর্শে শিশুটির নাড়ি কাটেন। পরে পুলিশ এসে বেলা ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে।

কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার আশরাফুজ্জামান জানান, শিশুটিকে জন্মের এগারো ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি আশঙ্কামুক্ত। তবুও শিশুটির সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ধ্যায় নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের পর উপজেলা সমাজসেবা অফিসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার জন্য দেওয়া হয়েছে। পরে এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকতাদিরুল আহমেদ জানান, স্বাধীনতার মাসে পাওয়া এ নবজাতকের নাম রেখেছি ‘স্বাধীন আহমেদ’। শিশুটিকে বর্তমানে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। পরে তার স্বজনদের পরিচয় পাওয়া গেলে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। নতুবা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিশুটিকে উপজেলা সমাজসেবা অফিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের স্ক্যানো শিশু ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আমরা গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীন আহমেদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। আমি এখনও নেত্রকোনা হাসপাতালে আছি। শিশুটির খাবারের জন্য যেসব ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা করা হচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত শিশুটির দায়িত্বভার কাউকে না দেওয়া হবে ততদিন পর্যন্ত সমাজসেবা অফিস তার যত্ন নেবে।

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা একরামুল হোসেন জানান, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো, খাবার খেলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। নেত্রকোনা সিভিল সার্জন তাজুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

শিশুটিকে উদ্ধারের খবর উপজেলা সদরসহ জেলা শহরে পৌঁছলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন তাকে দেখতে হাসপাতালে ভিড় করে। ইতোমধ্যে শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য দুটি পরিবার মৌখিকভাবে আবেদন জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনও পরিবারকে কিছু বলেনি সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ।

জেলা প্রশাসক মুশফিকুর রহমান বলেন, শিশুটির সর্বপ্রথম সুস্থতা প্রয়োজন, সুস্থ হলে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।