নোয়াখালী হাসপাতালের ওষুধ বিক্রির দায়ে ফার্মেসি কর্মচারী আটক

নোয়াখালীনোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সরকারি ওষুধ বিক্রির দায়ে রিয়াজ নামের এক ফার্মেসি কর্মচারীকে আটক করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তাকে সুধারাম মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে হাসপাতাল কম্পাউন্ডের ভেতরে আল-আমিন ফার্মেসির ওই কর্মচারীকে ওষুধ বিক্রি করার সময় আটক করা হয়।

আল-আমিন ফার্মেসির স্বত্তাধিকারী গোলাম মর্তুজা মুন্না বলেন, আমার দোকানের কর্মচারী রিয়াজ ওষুধগুলো হাসপাতালের কারও কাছ থেকে নিয়ে রোগীর কাছে বিক্রি করেছে। এখানে ফার্মেসির কোনও সম্পৃক্ততা নেই।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকালে হাসপাতালের বহির্বিভাগে একজন রোগী ডাক্তার দেখান। পরে ডাক্তারের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ওষুধ নেওয়ার জন্য বিনামূল্যের সরকারি ফার্মেসি খুঁজছিলেন তিনি। এ সময় না বুঝেই ওই রোগী সরকার অনুমোদিত হাসপাতাল কম্পাউন্ডে ব্যক্তি মালিকানাধীন আল-আমিন ফার্মেসিতে যান। কিন্তু ফার্মেসিতে কর্মরতরা তাকে সরকারি ফার্মেসির খোঁজ না দিয়ে ২০০ টাকার বিনিময়ে সরকারি সিলযুক্ত ওষুধ দেন। বিষয়টি হাসপাতালের এক ডাক্তারের নজরে আসলে তিনি কোথা থেকে এ ওষুধ নিয়েছেন জিজ্ঞাসা করলে রোগী জানান আল-আমিন ফার্মেসির একজন কর্মচারী তাকে এ ওষুধ দিয়েছেন।

পরে বিষয়টি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম ও তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ খলিল উল্যাহ্ ওই যুবককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় যুবক একবার বলেন, ওষুধগুলো হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইনচার্জের কাছ থেকে পেয়েছেন, আবার বলেন ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ইনচার্জের কাছ থেকে পেয়েছেন। পরে তাকে সুধারাম থানার শহর উপ-পরিদর্শক (টিএসআই) লিটন দত্তের কাছে সোপর্দ করা হয়।

সুধারাম মডেল থানার শহর উপ-পরিদর্শক (টিএসআই) লিটন দত্ত বলেন, সরকারি ওষুধ বিক্রির অপরাধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রিয়াজকে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি।

 নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জসিম উদ্দিনকে প্রধান করা হয়েছে। ওই কমিটি আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিলে তার আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ খলিল উল্যাহ্ বলেন, কীভাবে সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি করছে বিষয়টি তদন্তনাধীন রয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।