সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষী ও কোস্টগার্ডের ঘণ্টাব্যাপী যুদ্ধের পর ১৪ জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় ৫টি মাছ ধরার নৌকা, ২টি ফিশিং ট্রলার ও দস্যুদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালিয়েছে বনরক্ষী ও কোস্টগার্ড। রবিবার (৪ মার্চ) বনবিভাগ ও কোস্টগার্ড সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
বনবিভাগ ও কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, শনিবার সকালে বন বিভাগ ও কোস্টগার্ডের যৌথ নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল নিয়মিত টহলে যান। তারা দুপুর ১২টার দিকে দুধমুখীর গাতার খাল এলাকায় পৌঁছালে অভয়ারণ্য এলাকার মধ্যে কিছু নৌকা দেখতে পান। এসময় ট্রলার নিয়ে নৌকার কাছাকাছি গেলে বনের মধ্য থেকে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি করতে শুরু করে দস্যুরা। আত্মরক্ষার্থে তারাও পাল্টা গুলি চালায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে দস্যুরা বনের মধ্যে পালিয়ে যায়। পরে দস্যুদের আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে ১৪ জিম্মি জেলে, ৫টি মাছ ধরা নৌকা ও ৩টি ট্রলারসহ কোটি টাকার জলযান উদ্ধার করে দস্যুদের আস্তানা ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে মো. জাফর শেখ (২২), গাউস শেখ (৪২), গফ্ফার হাওলাদার (২৭), নাজমুল হক (২৬), আবুল বাশার (১৯), মনিরুল হক (২৩), হাসান (৩২), কামাল (২৪), রকিবুর (২৮), আবুল হোসেন (৩০), সোলায়মান (২৬), বাদল (২৪) ও নুরুজ্জামান (২৬) এর নাম জানা গেছে। এদের বাড়ি খুলনার দাকোপ, কয়রা, বরগুনার পাথরঘাটা ও বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
জানা যায়, নদী ও সাগরের বিভিন্ন এলাকা হতে ওই জেলেরা চার দিন আগে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশন থেকে পাস নিয়ে শরণখোলা রেঞ্জের দুধমুখী এলাকায় মাছ ধরতে এলে বনদস্যু ‘মামা-ভাগ্নে বাহিনী’র কবলে পড়ে।
এ ব্যাপারে কটকা অভয়রণ্যের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম সরকার জানান, উদ্ধার হওয়া জেলেরা আপাত তার জিম্মায় রয়েছে। উদ্ধার করা জলযানের ব্যাপারে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং উদ্ধার হওয়া জেলেদের তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা) অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহ্দীন জানান, সুন্দরবনের জেলেদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ডের কচিখালী ও কোকিলমনি ক্যাম্পের দু’টি ইউনিট সর্বদা তৎপর রয়েছে ।