গত শনিবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ (প্লেন) ওড়ার আগমুহূর্তে ওই তরুণী ‘আমি যাবো না, আমি অসুস্থ, আমাকে নামিয়ে দিন’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। তাকে নামিয়ে দেওয়ার পর জানা যায়, ‘প্রেমিকের’ ফোন পেয়ে প্লেন থেকে নেমে যাওয়ার জন্য চিৎকার করেন। তাকে আটক করে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় প্রেমিক তথা কাজিনকেও। তাদের বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায়।
রবিবার দুজনকে আদালতে তোলা হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি যশোর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দেন আদালত।
কোতোয়ালী থানার ওসি আজমল হুদা এবং আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এএসআই হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাবিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাদের (তরুণী ও তার কাজিন) ৫৪ ধারায় আদালতে হাজির করা হয়। আদালত যশোর কোতোয়ালী থানার ওসিকে এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আদেশ দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে জানতে বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই (উপপরিদর্শক) মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বোরকা পরিহিত ওই তরুণী সেদিন বিমানের ইঞ্জিন চালুর সঙ্গে সঙ্গে দ্রুতগতিতে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ওইসময় তিনজন মন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা ছিলেন। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।
যোগাযোগ করা হলে কোতোয়ালী থানার ওসি আজমল হুদা বলেন, ‘সোমবার (৫ মার্চ) আদালত থেকে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ পেয়েছি। আগামী দুদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ঘটনার দিন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ওই প্লেনে যাত্রী হিসেবে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুলনার জনসভা শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর উড়োজাহাজটি বিমানবন্দর ছেড়ে যায়।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যশোরের ব্যবস্থাপক সাব্বির হোসেন তুতুল জানান, তরুণী নিজেকে ‘অসুস্থ’ দাবি করলেও পরে জানা যায়, তার প্রেমিক বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান করছেন এবং তাকে ফোন করেছেন। ফোন পেয়েই তিনি চিৎকার করে ওঠেন।