দুই শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে আটক দম্পতি কারাগারে

নির্যাতনের চিহ্ন দেখাচ্ছে আশফিয়াবরিশাল নগরীতে বাসায় দুই শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে আটক দম্পতিকে মঙ্গলবার (৬ মার্চ) বিকালে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাতে নগরীর বাজার রোড এলাকার নিজ বাসা থেকে এঅ্যান্ডজে এন্টারপ্রাইজের মালিক জুয়েল আহম্মেদ ও তার স্ত্রী ইসরাত জাহান দিনাকে আটক করে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ ওই দম্পতিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে হাজির করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী আশফিয়া (১৩) ও আয়েশাকে (১৫) কোতোয়ালী থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। দেড় বছর ধরে শিশুদুটিকে বাসায় আটকে নির্যাতন করা হচ্ছিল।

আদালতে গৃহকর্মী নির্যাতনকারী দম্পতিএর আগে কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জীব চন্দ্রশীল বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গৃহকর্মী নির্যাতনকারী দম্পতি জুয়েল আহমেদ ও ইশরাত জাহানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শাহনাজ পারভিন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে আশফিয়া ও আয়েশাকে সোমবার রাতে বরিশাল নগরের কাশিপুর ও বাজার রোড এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই নির্যাতনকারী দম্পতিকে আটক করে পুলিশ। এসময় নির্যাতনের সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনটি শেকল ও তিনটি তালাও উদ্ধার করা হয়।

নির্যাতনের শিকার আশফিয়া তার বাড়ি, মা-বাবার নাম-ঠিকানা জানে না। সে জানায়, আট বছর বয়সে কাশিপুরের হেলালউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি তাকে দত্তক কন্যা হিসেবে লালন পালন করতে আনেন। সেখান থেকে বাজার রোডের ওই বাসায় তাকে কাজ করতে পাঠানো হয়। সেখানে শেকল ও তালা দিয়ে তাকে বেঁধে রাখা হতো। প্রচুর নির্যাতন করা হতো, খাবার দেওয়া হতো কম। আঙ্গুলে সুঁই ফুটানো হতো। এই নির্যাতন থেকে বাঁচতে সে সোমবার সকালে পালিয়ে দক্ষিণ বাঘিয়া এলাকার বাসিন্দা রেনু বেগমের বাসায় গিয়ে পানি খেতে চেয়ে সেখানে ঘটনা খুলে বলে।

খবর পেয়ে পুলিশ তাকে এবং পরে ওই বাসা থেকে আয়েশাকেও উদ্ধার এবং নির্যাতনকারী দম্পতিকে আটক করে।