চট্টগ্রামে জাতীয় পার্টির (জাপা) কর্মী সম্মেলনে দলটির মহাসচিব এ বি এম রহুল আমিন হাওলাদারের সামনে দুই পক্ষের নেতাকর্মী মধ্যে তিন দফায় চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ মার্চ) বিকালে নগরীর লালখান বাজারে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির সাবেক আহ্বায়ক মাহজাবীন মোরশেদ এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সোলায়মান আলম শেঠের অনুসারীদের মধ্যে এ চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আধিপত্য বিস্তার এবং বক্তব্য দেওয়া ও না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, বিকাল ৪টার দিকে অনুষ্ঠানের শুরুতে এক দফায় চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় অনুষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার করতে মাহজাবীন মোরশেদের অনুসারীরা কোনও কারণ ছাড়াই চেয়ার ছোড়াছুড়ি করেন। এর ১০-১৫ মিনিট পর পরিস্থিতি শান্ত হলে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে মহানগর ছাত্র সমাজের সভাপতি ও মাহজাবীন মোরশেদের অনুসারী রাশেদুল হক খোকন বক্তব্য দিতে মঞ্চে উঠলে দ্বিতীয় দফায় চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। খোকন বক্তব্য দেওয়ার সময় মহানগর ছাত্র সমাজের নতুন কমিটির জন্য সাকিব ও অমিত প্যানেলের পক্ষে অবস্থান নিলে সোলায়মান আলম শেঠের অনুসারী ছাত্র সমাজের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করেন। এসময় উভয়পক্ষ চেয়ার ছোড়াছুড়ির পাশাপাশি হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে মঞ্চে থাকা সিনিয়র নেতাদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হলে বক্তব্য শুরু করেন যুব সংহতির সভাপতি (মাহজাবীন মোরশেদ পক্ষের) এস এম সাইফুল্লাহ। এর পরে মহানগর যুব সংহতির বৈধ কমিটির সভাপতি আফসার উদ্দিন রনিকে বক্তব্য দিতে না দেওয়ায় তৃতীয় দফায় চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এসময় মঞ্চে ওঠে উভয় পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এপর্যায়ে অনুষ্ঠানের সভাপতি জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রহুল আমিন হাওলাদার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এতেও বিশৃঙ্খলা বন্ধ না হলে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। এরপর মঞ্চে থাকা অন্যান্য নেতারা দ্রুত বক্তব্য দিয়ে সম্মেলনে শেষ করেন।
চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও হাতাহাতির ব্যাপারে মাহজাবীন মোরশেদ বলেন, ‘এটা (কর্মী সম্মেলন) বড় একটা গেদারিং ছিল। চট্টগ্রামের নানা জায়গা থেকে নেতাকর্মীরা এসেছিলেন। সবাইকে তো আর বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। আর সে সুযোগ পাননি বলে কিছু নেতাকর্মী একটু বিশৃঙ্খলা করেছিলেন।’
তবে এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিক বার ফোন দেওয়া হলেও তা রিসিভড করেনি সোলায়মান আলম শেঠ।
বিশৃঙ্খলার মাঝে অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন– অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বন ও পরিবেশমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, জিয়া উদ্দিন বাবলু, সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলা, মুজিবুল হক চুন্নু, মশিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, সুনীল শুভ রায়, সোলায়মান আলম শেঠ ও সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান মাহজাবীন মোরশেদ প্রমুখ।
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘গত ২৭ বছর ধরে সরকার আসে, চলে যায়। কিন্তু মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। আমরা দেশের মানুষের কান্না, নিপীড়ন চাই না। দেশের মানুষ যেন নিরাপদে থাকে, শান্তিতে থাকে, আমরা সেটা চাই। আমরা বাংলাদেশকে একটি আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই। তাই হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনতে হবে।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা পাড়া-মহল্লায় যাবেন, অলিতে-গলিতে যাবেন। মানুষের কাছে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসন আমলের সাফল্য তুলে ধরবেন।’
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘আমরা সাংবিধানিক রাজনীতি বিশ্বাস করি, নির্বাচনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। ১৯৯১ সালে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কারাগারে ছিলেন। আমরা তখনও নির্বাচনে গিয়েছিলাম। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াইনি।
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ পরিবর্তন আশা করছে। চলুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের মানুষে সেই ইচ্ছে পূরণ করি। আমরা সুসংগঠিত হতে চাই।’
আগামী ২৪ মার্চ ঢাকায় বিশাল জনসভা আয়োজন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে দেখাতে চাই, আমরা আছি, আমরাই পরিবর্তন আনবো।’