বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের মা’ উপাধি দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘৩৬ বছর আগে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দেশের রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য তিনি অনেক কিছু বিসর্জন দিয়েছেন। কিন্তু কখনও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। এখন বর্তমান সরকার তার ওপর অত্যাচার করছে। তাকে বাড়ি থেকে উৎখাত করেছে, কারাগারে পুরেছে। কিন্তু এরপরও তিনি গণতন্ত্র মুক্ত করার প্রত্যয় হারাননি। এজন্য খুলনার জনসভা থেকে তাকে ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে নতুন উপাধি দিতে চাই।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘কারাগারে যাওয়ার পরও এক মুহূর্তের জন্য ভেঙে পড়েননি। কারাগার থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্যধারণ ও গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’
শনিবার (১০ মার্চ) খুলনা মহানগর বিএনপির কার্যালয় সংলগ্ন কেডি ঘোষ রোডের হেলাতলা মোড়ে বিএনপির বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় মির্জা ফখরুল প্রায় ২৮ মিনিট বক্তব্য রাখেন। এর মধ্যে ২০ মিনিটই তিনি খালেদা জিয়ার বন্দনা করেন।
বর্তমান সরকার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ সরকার ১০ টাকা কেজিতে চাল খাওয়াবে বলেছিল। সে কথা তারা রাখতে পারেনি। এ সরকার কয়েক দফায় চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় নানা পণ্য এবং বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। মানুষের চাওয়া-পাওয়ার দিকে তাদের নজর নেই। এ সরকার দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে।’
বর্তমান সরকারের কথা ও কাজে মিল নেই বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ সরকার বাগাড়ম্বরে বিশ্বাসী। তাদের কথা ও কাজে মিল নেই। দিনকে রাত, রাতকে দিন করছে তারা।’
বর্তমান সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে এ সরকার। এখন তারা অবৈধভাবেই ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এজন্য তারা নানা ধরনের অপরাধও করে চলেছে। আর সরকারের অবৈধ সংসদে গৃহপালিত বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।’
খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় জনসভার মধ্যদিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্র রক্ষা, ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামের সূচনা হলো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির বিভাগীয় জনসভাকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে খুলনা নগরীতে উত্তেজনা ছিল। এর মধ্যেই শনিবার হাদিস পার্ক ও এর আশেপাশের এলাকায় মিছিল-সমাবেশ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিশ। এ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বিএনপির কার্যালয় সংলগ্ন কেডি ঘোষ রোডস্ত হেলাতলা মোড়ে জনসভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু প্রমুখ।