এসপি অফিসের সামনে থেকেই ফুটপাতের দুই ডজন ঢাকনা চুরি

 

ফুটপাতের ঢাকনা চুরিমাদারীপুরের নবনির্মিত চার লেনের প্রধান সড়কের পাশের ফুটপাত থেকে গত এক মাসে শতাধিক লোহার ঢাকনা চুরি হয়ে গেছে। এর মধ্যে জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের সামনে থেকেই চুরি হয়েছে ২৫টির বেশি ঢাকনা। মাদারীপুর জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার দেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের ফুটপাত থেকে ২৫টির বেশি ঢাকনা চুরি হওয়ায় এখানে সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটাচলা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এছাড়া শহরের অন্যান্য স্থানেও প্রধান সড়কের পাশ থেকে অসংখ্য লোহার তৈরি এসব ঢাকনা চুরি হয়েছে ইতিমধ্যেই।

সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি মাদারীপুর শহরের প্রধান সড়ক। দশ কিলোমিটার চার লেন ও দুই কিলোমিটার দুই লেন সড়ক নির্মাণের অংশ হিসেবে পাশে পানি প্রবাহের জন্য ড্রেনও নির্মাণ করা হয়। সড়কে যেন পানি জমে না থাকে এই কারণে কয়েক মিটার পর পর ড্রেনের ওপর লোহার তৈরি ঢাকনা বসানো হয়। যার মধ্য দিয়ে ড্রেনে পানি ঢুকতে পারে। ঢাকানাগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন ফুটপাত দিয়ে হাঁটাচলা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এছাড়া শিশু ও বৃদ্ধসহ অসচেতন অবস্থায় থাকা যেকোনও ব্যক্তি এখানে পড়ে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন অল্প-বিস্তর আহতও হয়েছেন।

মাদারীপুরের টিআইবি’র সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য এনায়েত হোসেন নান্নু বলেন, ‘যেভাবে ঢাকনা চুরি হচ্ছে তাতে একসময় একটিও থাকবে না। খোদ এসপি অফিসের সামনে থেকে এভাবে ঢাকনা চুরি হলে তা কেমন দেখায়!’

মাদারীপুরের পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদফতর থেকে চার লেন সড়কের অংশ হিসেবে যে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে তা পৌরসভার পরিকল্পনা অনুযায়ী করা হয়নি। সড়ক ও জনপথ রাস্তা তৈরি করে কিন্তু তারা এখানে যে ড্রেন নির্মাণ করেছে তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তারা নেয়নি। পৌরসভা সড়ক ও জনপথের নির্মিত এই স্থাপনায় কাজ করতে পারবে না। তাই এগুলো নিয়ে আগামীতে ঝামেলা হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার দেব বলেন, ‘নেশাখোররা এসব ঢাকনা চুরি করছে। লোহার তৈরি এসব ঢাকনা নগদ টাকায় তারা বিক্রি করতে পারে। পুলিশ এই চোর চক্রকে ধরার চেষ্টা করছে।’