নাসিরনগরে জাপা প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন, ভোটগণনা চলছে

জাপা প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন (ছবি- প্রতিনিধি)

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী রেজোয়ান আহমেদ। মঙ্গলবার বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে নাসিরনগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

ভোটগণনা চলছে (ছবি- প্রতিনিধি)

সংবাদ সম্মেলনে জাপা প্রার্থী রেজোয়ান আহমেদ অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, অনিয়ম, কেন্দ্রদখল, জাল ভোটের উৎসব হয়েছে। এ নিয়ে রিটানিং কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছি। তবে কোনও সাড়া পাইনি। আমি এই প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় সব কেন্দ্রে নির্বাচন দাবি করছি।’

বিকাল ৪টার পর কেন নির্বাচন বর্জন বা প্রত্যাখ্যান করলেন, –এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘আমি প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলে ছিলাম। তাই আসতে একটু দেরি হয়েছে।’

এদিকে, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে নাসিরনগর আসনে এখন ভোট গণনা চলছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একযোগে ৭৪টি কেন্দ্রে ভোটগণনা চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল থেকে দিনভর শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। তবে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। বেলা বাড়লেও নাসিরনগর সদর, গুনিয়াউক, গোয়ালনগর, ফান্দাউক, চাপরতলা গোকর্ণ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়েনি।

গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর লাহাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জামিল ফোরকান জানান, তার কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৮৯ জন। এর মধ্যে দুপুর দেড়টার পর্যন্ত ৭শ’ ৫৫ জন ভোট দিয়েছেন। ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ছিল বলেও জানান তিনি।

তবে জাতীয় পার্টির এজেন্ট কায়েস শাহাজাহান অভিযোগ করেন, নূরপুর সরকারি প্রাথামিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে একদল বহিরাগত তাকে জোর করে বের করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ একদল লোক কেন্দ্রে প্রবেশ করে আমাকে মারধর করে বের করে দেয়। এর আধাঘণ্টা পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এসে তাদের বের করে দেয়। ওই সময় আবার আমি কেন্দ্রে প্রবেশ করি।’

এদিকে, নাসিরনগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে রাজিব ও পাপন নামে দুই ছাত্রলীগকর্মীকে আটক করা হয়। এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক জানান, নাসিরনগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ হাজার ৮৫। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রায় এক হাজার দুইশ’ এর কাছাকাছি ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চাতলপাড় এবং চাপরতলা কেন্দ্রে কয়েক দফা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ৭৪টি কেন্দ্রে বড় ধরনের কোনও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।