সংবাদকর্মীকে নির্যাতন: ডিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে কমিটি

বরিশালে সংবাদকর্মীদের বিক্ষোভতদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বরিশালে ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাপারসন সুমন হাসানকে নির্যাতনকারী ডিবি পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে যাচ্ছে ওই ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি। অন্যদিকে, দোষীদের দৃষ্টান্ততমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সংবাদকর্মীরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অশ্বিনী কুমার হলের সংলগ্ন সদর রোডে বরিশালে কর্মরত বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ডিবিসির ক্যামেরাপারসন সুমন হাসানকে নির্যাতনের প্রতিবাদে বরিশাল টেলিভিশন মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে বরিশালের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সাংবাদিকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকালে ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার ফটো সাংবাদিকরা তাদের ক্যামেরা সড়কের ওপর রেখে প্রতিবাদ জানান।

মানববন্ধনবরিশাল টেলিভিশন মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিনা কারণে সুমন হাসানকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে জামা-কাপড় ছিঁড়ে গাড়িতে ও ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত ডিবি পুলিশের আট সদস্যের কঠোর শাস্তিসহ চাকরিচ্যুত করার দাবি জানান।

দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সংবাদকর্মীরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দেন।

অভিযুক্ত ডিবি পুলিশদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে বক্তব্য রাখেন ৭১ টেলিভিশনের বরিশাল প্রতিনিধি ও বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি কিধান সরকার, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের বরিশাল প্রতিনিধি মুরাদ আহমেদ, স্থানীয় দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশের সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও স্থানীয় দৈনিক পরিবর্তনের প্রকাশক-সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, বরিশাল মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব সভাপতি আবুল কালাম আজাদ,সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজল ঘোষ, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ ২৪ এর বরিশাল প্রতিনিধি রাহাত খান, বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিন্টু কর, বাসদের বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তী প্রমুখ।

এদিকে, ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাপারসন সুমন হাসানকে নির্যাতন করার ঘটনায় ডিবি কনস্টেবল মাসুদুল আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নগর পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমিনের নির্দেশে নগর পুলিশের এডিসি রুনা লায়লার নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভিক্টিম, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে  বিনা দোষে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন। তদন্ত কমিটি প্রধান এডিসি রুনা লায়লা এর সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ তদন্ত রিপোর্ট খুব শিগগিরই কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা হবে।