মেঘনায় আনোয়ার ও টিকে গ্রুপের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, জরিমানা

মেঘনার পূর্ব তীরে বিআইডাব্লিউটিএর উচ্ছেদ অভিযানমেঘনা নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ার গ্রুপ ও টিকে গ্রুপের তিন শিল্প প্রতিষ্ঠানের দখল করা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এ সময় আনোয়ার গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আনোয়ার জুট স্পিনিং মিলস কর্তৃপক্ষকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নদী ভরাট করতে থাকা একটি ড্রেজারও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
বুধবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম বানু শান্তির নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানটি চালানো হয়। মেঘনা সেতু সংলগ্ন মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার শিকেরগাঁও এলাকায় বিআইডাব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর শাখা এই অভিযান পরিচালনা করে।
বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের উপপরিচালক মো. শহিদুল্লাহ জানান, গজারিয়ার শিকেরগাঁও এলাকায় আনোয়ার গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আনোয়ার জুট স্পিনিং মিলস কর্তৃপক্ষ অনেক আগে থেকেই মেঘনা নদীর পূর্ব তীরের প্রায় ১০ হাজার বর্গফুট জায়গা দখল করে রেখেছিল। ওই জায়গায় পাথর দিয়ে ঢালাই করে গাইড ওয়াল নির্মাণ করেছিল তারা।
বুধবার সকাল থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম বানু শান্তির নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে ওই গাইড ওয়াল সংলগ্ন আনসারদের পাঁচটি লোহার তৈরি চৌকিঘর, দুইটি ড্রেজারের পাইপসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মজিবুর রহমান ও ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল কাদিরকে আটক করে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযানে ভেঙে দেওয়া হয় ড্রেজার, চৌকিঘরমো. শহিদুল্লাহ জানান, আনোয়ার গ্রুপের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধ করে পাথর ঢালাই দিয়ে নির্মিত গাইড ওয়াল ও দু’টি জেটি একমাসের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে টিকে গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সামুদা কেমিক্যাল ও সামুদা সুপার বোর্ডের সামনের নদী ভরাট করা অংশ ভেকু দিয়ে কেটে দেওয়া হয় এবং তাদের আনসারদের একটি চৌকি ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় একটি ড্রেজারও ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
মো. শহিদুল্লাহ আরও জানান, মেঘনা নদীতে ৩০টি অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এসব স্থাপনা ভাঙতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম বানু শান্তি জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবারের এই অভিযান চালানো হয়েছে। আমাদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের উপপরিচালক সহকারী পরিচালক পারভেজ আহাম্মেদ, মো. শাহ আলম, মুন্সীগঞ্জের শরিকাদিম শাখার সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম লিটন, গজারিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উচ্ছেদ অভিযানে বিআইডব্লিউটিএ’র জাহাজ অগ্রণী, একটি এক্সাভেটর (ভেকু), একটি টাগবোটসহ বিপুলসংখ্যক উচ্ছেদকর্মী, নৌপুলিশ ও আনসার সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন-

প্রেমের টানে ফিলিপাইনের তরুণী কুড়িগ্রামে
৫৯ বস্তা সরকারি চাল জব্দ, আ.লীগ-বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা