শুক্রবার (৩০ মার্চ) সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার জন্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফারুক মিয়ার কাছে ফেব্রুয়ারিতে একটি ই-মেইল আসে। ওই সেমিনারে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। এরপর হোটেল ভাড়া, বিমান টিকিট, ইন্সুরেন্স ও ফেরৎযোগ্য জামানত হিসেবে তার কাছ থেকে তিন দফায় ৫ হাজার ৬০০ ডলার হাতিয়ে নেয় প্রতারকচক্র। গত ২৭ মার্চ ওই চক্রের এক সদস্য ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের পাশে তাকে একটি ট্রাভেল ব্যাগ দিয়ে তা সিলেটে নিয়ে যেতে বলে। এ সময় ল্যান্ডিং চার্জ বাবদ আরও দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ওই চক্র। ব্যাগ নিয়ে ড. ফারুক দেখতে পান তার ভেতরে বিশাল ওজনের একটি মেশিন রয়েছে। কনফারেন্সের কোনও ডকুমেন্ট নেই। এরপর ড. ফারুক আবার আমেরিকায় ফোন দিয়ে ডকুমেন্টের ব্যাপারে জানতে চান। তখন তাকে বলা হয় এই ব্যাগ নিয়ে সিলেট চলে আসতে। পরদিন তাদের একজন লোক সিলেট এসে ব্যাগের ভেতরের মেশিন থেকে সব ডকুমেন্ট বের করে দেবে। পরদিন ওই চক্রের আরেক সদস্য ডোনাটস সিলেটে এসে ড. ফারুককে ফোন দেয়। তারা নগরীর উপ-শহরের হোটেল রোজভিউয়ের সামনে একটি মাইক্রোবাসে সাক্ষাৎ করেন। তখন ডোনাটস মেশিন থেকে জাল ডলার তৈরি করে ড. ফারুকের হাতে ধরিয়ে দেয়।
প্রতারণার শিকার শাবির অধ্যাপক ড. ফারুক বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন এবং এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে শাহপরান থানায় একটি মামলা করেন। এরপর পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ডোনাটসকে গ্রেফতার করে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিতোষ ঘোষ আরও বলেন, আটক ব্যক্তি একটি আন্তর্জাতিক প্রতারকচক্রের সদস্য। দেশ ও দেশের বাইরের অনেক প্রতারক এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। দেশে আর কে কে জড়িত আছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। তাছাড়া মানুষকেও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।