শুক্রবার বিকালে মোস্তাকিমকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু রায়হানের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলেও আদালত কোনও আদেশ দেননি। শনিবার বা রবিবার এ ব্যাপারে শুনানি হতে পারে।
শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও তদন্ত কর্মবর্তা আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মোস্তাকিম ছাড়া গ্রেফতার হওয়া অন্য চার জন হলো— মালগ্রামের রমজান আলীর ছেলে হাসান আলী, ঠনঠনিয়া হিন্দুপাড়ার আবদুল কাদেরের ছেলে জীবন,ঠনঠনিয়া মধ্যপাড়ার মৃত আবু তালেবের ছেলে রাসেল মিয়া ও সন্দিগ্ধ মিলু। বগুড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোস্তাকিম শহরের খান্দার বিলেরপাড় এলাকার মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার এ হত্যাচেষ্টায় দায়ের করার মামলার বাকি আসামিরা হলো— পাসপোর্ট অফিস এলাকার আদিল, জনি, ঠনঠনিয়া শাহ্পাড়ার রোমান, মালগ্রামের শান্ত, শাহপাড়ার কাফি, সীমান্ত ও দাঁত ভাঙ্গা শহিদুল।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ মোস্তাকিম ছয়-সাত জনকে নিয়ে এমডি সাহজাহান কবিরকে হুমকি দেয়। ২৯ মার্চ দুপুরে কবিরকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ১৫-১৬ জন সন্ত্রাসী পথরোধ করে। তিনি (এডি) দৌড়ে বন বিভাগের অফিসের একটি কক্ষে ঢুকেও রক্ষা পাননি। আসামিরা সেখানে কবিরকে কোপায়। তার আর্ত্মনাদ শুনে আশপাশের জনগণ এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। প্রথমে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শুক্রবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা জানান, শাজাহানপুর থানায় মামলার পরপরই পুলিশের কয়েকটি টিম অভিযান নামে। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে এজাহারনামীয় হাসান আলী, জীবন, রাসেল মিয়া ও সন্দিগ্ধ মিলুকে গ্রেফতার করে। মোস্তাকিম হিলি সীমান্ত পথে ভারতে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছিল। তিনি জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে মোস্তাকিমের বিরুদ্ধে গত ২০১২ সালের ৩০ নভেম্বর শহরের মালগ্রাম এলাকায় শহর আওয়ামী লীগ নেতা সুজানুর রহমান সুজন হত্যা ছাড়াও অস্ত্র, চাঁদাবাচজিসহ ৪টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে।
বগুড়া জেলা যুবলীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, পৌর কাউন্সিলর মোস্তাকিম শহর যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক। কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ বিরক্ত হবেন এমন অজুহাতে ওই নেতা মোস্তাকিমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।