নৌকা প্রতীকের জন্য আওয়ামী কর্মী-সমর্থক ও প্রার্থীদের মধ্যে চলছে ঠাণ্ডা লড়াই। দলীয় প্রতীকে এবারই প্রথম নির্বাচন হবে। তাই প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের চোখ এখন দলীয় প্রতীকের দিকে।
২০১৩ সালের ৬ জুলাই হওয়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনের মতো এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন পাঁচ মনোনয়নপ্রত্যাশী। তারা হলেন— গত নির্বাচনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম।
শনিবার (৩১ মার্চ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা গাজীপুরসহ খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এ দুই করপোরেশনের ভোট নেওয়া হবে আগামী ১৫ মে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বর্তমান গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান। তিনি তখন গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। আজমত উল্লাহ এবারও মনোনয়নের প্রত্যাশায় মাঠে-ময়দানে সরব রয়েছেন বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র।
নির্বাচনের বিষয়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান জানান, প্রথম সিটি নির্বাচনে কিছু ভুল-ত্রুটি ও দলীয় কোন্দল থাকায় বিএনপির প্রার্থী জয় লাভ করেছিল। গত পাঁচ বছরে সেগুলো কাটিয়ে উঠেছি। সেই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় তারা বিএনপির মেয়রের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
অন্যদিকে, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম প্রথমবার মনোনয়ন না পেলেও তার ভাগ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ জোটে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার একাধিক সমর্থক জানান, তিনি মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডে তার একক অবদানের প্রচার রয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে। নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, তিনি প্রতিবছর জাতীয় শোক দিবসে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিটি ওয়ার্ড কার্যালয়ে একটি করে গরু কাঙ্গালি ভোজের জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছেন।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিগত দিনে তার কর্মকাণ্ড প্রমাণ করেছে তিনি নগরবাসী এবং দলের জন্য কী করতে পেরেছেন বা পারবেন। তার কর্মকাণ্ড, দলের শীর্ষ নেতা, দলীয় কর্মী-সমর্থক ও নগরবাসী তাকে তার কাঙ্ক্ষিত পদের জন্য প্রত্যাশিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,সব প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা নৌকা প্রতীকের জন্য মাঠে কাজ করছেন। আর সব প্রার্থীর ইতিবাচক ইমেজ থাকায় প্রার্থী নির্বাচনে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে পারে দলীয় হাইকমান্ড।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান রাসেল বলেন, ‘দলের নেতাকর্মী-সমর্থকেরা পরিচ্ছন্ন এবং মাঠে-ঘাটে জনগণের জন্য দৌড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তিকেই চায়। সেদিক থেকে আমি নিজেকে যোগ্য মনে করি। যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে গাজীপুরে আওয়ামী লীগের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে পারবো বলে আমি শতভাগ আশাবাদী।’
কামরুল আহসান রাসেলের সমর্থকেরা জানান, প্রায় দু’বছর আগে থেকে মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পোস্টার সাঁটানো ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। প্রচারের দিক থেকে তিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণও দল থেকে এবার মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন তার সমর্থকেরা। একই উদ্দেশে তিনিও মহানগরব্যাপী সামাজিক নানামুখী কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ জানান, ২০১৩ সালের ৬ জুলাই গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন হয়। প্রথম সভা হয় একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর। আইন অনুযায়ী গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর।
গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আসলাম জানান, ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মোট আয়তন ৩২৯.৯০ বর্গ কিলোমিটার। এখানে মোট ভোটার ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৯১ হাজার ৬৯৮ জন এবং নারী ভোটার ৫ লাখ ৭২ হাজার ৪৬৩ জন। ২০১৩ সালের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩০ জন।
২০১৩ সালের ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত সিটি করপোরশন নির্বাচনে ৩৯২টি কেন্দ্রে বিএনপি থেকে মনোনীত অধ্যাপক এম এ মান্নান পেয়েছিলেন তিন লাখ ৬৫ হাজার ৪৪৪ ভোট এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান দোয়াত-কলম নিয়ে পেয়েছিলেন দুই লাখ ৫৮ হাজার ৮৬৭ ভোট।